শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
গোপালগঞ্জে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা মাদারীপুরের কালকিনিতে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব-৮ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী র‌্যাব-৮ এর অভিযানে গ্রেফতার। রানীশংকৈলে শহীদ জিয়ার ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, দোয়া-মিলাদ ও খাদ্য বিতরণ আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে র‌্যাব-৮ এর আওতাধীন এলাকায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পিরোজপুর পৌর পশুর হাটে কন্ট্রোল রুম ও জাল টাকা সনাক্তকরণের মেশিন স্থাপন,পশুর হাট পরিদর্শন করে র‌্যাব-৮ এর সিপিএসসি ক্যাম্পন ভয়ানক মাদকের কারবার ফেন্সিডিলসহ ৪ জন মাদক ব্যবসায়ী র‌্যাব-৮ কর্তৃক গ্রেফতার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলা এবং খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, অস্ত্র সহ সর্বমোট ১৮ টি মামলার দুর্ধর্ষ অভিযুক্ত লিটন র‌্যাব-৮ কর্তৃক গ্রেফতার র‍্যাব-৮ এর অভিযানে মরণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র বিদেশি পেন গান উদ্ধার র‌্যাব-৮ কর্তৃক কাউখালি থানার চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলার পলাতক একজন ডাকাত সদস্য গ্রেফতার

গোপালগঞ্জে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম লিমন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সম্পদের উৎস, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ১০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত সাংবাদিকরা মামলাটিকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকার বাসিন্দা জামিরুর রহমান (তুহিন) গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক, উপদেষ্টা সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মে মাসে কয়েকজন সাংবাদিক বাদীর সম্পদের উৎস, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাদীর দাবি, প্রকাশিত সংবাদগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এছাড়া মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ না দিলে আরও নেতিবাচক ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা প্রদান করা হলেও বাকি অর্থের জন্য চাপ অব্যাহত রাখা হয়। এতে তিনি প্রায় এক কোটি টাকার মানহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে তথ্য-উপাত্ত, স্থানীয় অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অর্থ দাবি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সম্পদ অর্জন, আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তারা মনে করেন, এটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি কৌশল।এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিকরা বলেন, “সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আমরা বারবার চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছি। সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।”
এদিকে মামলাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ