শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
গোপালগঞ্জে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভনের অভিযোগ; নারীর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে অভিযুক্ত পূর্বধলায় এমপি মানসুরা আক্তারের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ফকিরহাটে ৪ হাজার ১৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার-৪ আদমদীঘিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আদমদীঘিতে পরিত্যক্ত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল কর্তৃক উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের টাকা প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর পটুয়াখালীতে মাদক ব্যবসায়ীদের বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে জখম ৷ ফল উৎসব -২০২৬ইং উদযাপন করেন এ. টি. একাডেমী বাংলাদেশে সফলভাবে অনুষ্ঠিত CST লেভেল-১ প্রশিক্ষণ: খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও নেতৃত্ব বিকাশে নতুন দিগন্ত কাশিয়ানীতে অবসরপ্রাপ্ত আর্মি সার্জেন্টের গুদামে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ চুরি; লাখ টাকার কৃষিপণ্য ও মালামাল লুটের অভিযোগ, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি

সাংবাদিককে এলাকা ছাড়তে বললেন ওসি সবগুলো মামলায় জড়াতে চাপ

সাধন রায়,লালমনিরহাট, প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটে কর্মরত সাংবাদিক ফারুক আলমকে সব মামলায় জড়ানোর চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ চাপ সামলাতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আলী আকবর সাংবাদিক ফারুক আলমকে এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।লালমনিরহাট জেলায় কর্মরত সাংবাদিক ফারুক আলমের বাড়ি জেলার আদিতমারী উপজেলা সদরের টিএনটি পাড়ায়। আদিতমারী থানা থেকে হাফ কিলোমিটার দূরে।বর্তমানে বাংলাট্রিবিউন ও দৈনিক শেয়ার বিজে জেলা প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত।গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ওসি আলী আকবার৪৪.০১০.০০০০.০১৯.৪৮.০০৩.২২-৪২৭(১৮) সাক্ষরিত স্মারকের একটি ডেভিল হান্টের গোপন তালিকায় ৩৯ নম্বরে সাংবাদিক ফারুক আলমের নাম যুক্ত করা হয়। তালিকায় তাকে আওয়ামীলীগের সক্রিয় সদস্য ও পলাতক দেখানো হয়েছে।
অথচ সাংবাদিক ফারুক আলম নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনির বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং‌ ওসি আলী আকবারের সাথেও খবরের প্রয়োজনে নিয়মিত কথা বলেন। এ বিষয়ে ওসি আলী আকবর প্রথমে ডেভিল হান্টে নাম যুক্ত করার কথা অস্বীকার করেন। পরে তালিকা দেখানো হলে তিনি অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভূলটি সংশোধনের আশ্বাস দেন।৪ মার্চ সাংবাদিক ফারুক আলম ওসি আলী আকবরকে বলেন, আমি একজন কবি, লেখক, সংবাদকর্মী বিভিন্ন স্থান থেকে সম্মাননা পেয়েছি। আমার লেখা গল্প-কবিতা পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়। আমার পরিবারের এবং বাবা-চাচার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ, মামলা, সাধারণ ডায়রি (জিডি) নাই। এর পরেও আমাকে আপনার আতঙ্কজনক মনে হয়েছে, যা দুঃখজনক। তিনি আরো বলেন, আপনার কাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। উপজেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমাকে আপনার প্রয়োজন হলে একবার ফোন দিয়ে বলবেন, আমি স্বশরীরে হাজির হয়ে আপনার টেবিলের সামনে স্যারেন্ডার করবো। আমি আতঙ্কজনক হয়ে থাকতে চাইনা।
এর‌ আগে (৪ মার্চ) ওসি আলী আকবর ডেভিল হান্টের তালিকায় নাম যুক্ত করার বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমি এটা করেছি, আমার ওপর ছেড়ে দেন, দেখেন আমি কি করি, আপনি কেন স্যারেন্ডার করবেন?জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্টে আদিতমারী উপজেলা বিএনপির পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী একটি মামলা হয়। প্রথমে ওই মামলায় ফারুক আলমকে এজাহারে ভুক্ত করে ৪০ নম্বর আসামি করা হয়। একই দিন এজহার পাল্টিয়ে ফারুক আলমের নাম এজাহার থেকে বাদ দেয়া হয়। ৩ আগস্ট থেকে স্থানীয় লোকজন ও বিভিন্ন সোর্স থেকে সাংবাদিক ফারুক আলমের কাছে পুলিশি হয়রানিমূলক হুমকি আসতে থাকে।
সর্বশেষ সোমবার (১৭ মার্চ) লোক পাঠিয়ে ফারুক আলমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (ঔষধের দোকান) বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়।এ বিষয়ে ওসি বলেন “আমি ওনাকে (ফারুক আলমকে) সরে থাকতে বলেছি। আমার ওপর খুব খুব খুব চাপ।ওনাকে সব মামলায় জাড়ানোর চাপ দেয়া হচ্ছে। আমার থানা থেকে ৪ আঙ্গুল দূরে ওনার বাড়ি। ওনার সাপোর্টে আর আমি কথা বলতে পারবোনা। ওনি যা কিছু করার সদরে গিয়ে করুক”।
এ বিষয়ে ওসি আলী আকবর আরো বলেন “আমি ওনাকে সরে থাকতে বলেছি। আমার ওপর খুব খুব চাপ। ওনাকে সব মামলায় জাড়ানোর চাপ। সমস্যা হচ্ছে আমার থানা থেকে ৪ আঙ্গুল দূরে ওনার বাড়ি। ওনার সাপোর্টে আর আমি কথা বলতে পারবোনা। ওনার যা কিছু করার সদরে গিয়ে করুক”।
কারা চাপ দিচ্ছে এবং কেনো চাপ দিচ্ছে- এ বিষয়ে মঙ্গলবার ১৮ মার্চ কথা বলতে চাইলে আদিতমারী থানার ওসি আলী আকবর মাগরীবের নামাজের পরে থানায় আসতে বলেন।উলেক্ষ্য-বৈম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মোহাম্মদ আলী (১৮) নামে এক যুবককে গুলি করে আহতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই মামলায় শেখ হাসিনা এক নম্বর ও লালমনিরহাটে কর্মরত সাংবাদিক ফারুক আলমকে ৮০ নম্বর আসামি করা হয়। সেই সময় মামলার বাদি মমিন মিয়া মামলায় কাকে কাকে আসামি করা হয়েছে তা মালার বাদী মমিন মিয়া বলেন, ‘মামলাটি আমি করেছি ঠিক। তবে অনেকের সঙ্গে কথা বলে আসামিদের তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় কার কার নাম আছে, ঠিক আমি জানি। এই মামলায় আপনার নাম থাকার কথা নয়’। আসামিদের তালিকা কে করে দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকের সঙ্গে পরামর্শ করে করা হয়েছে। বিষয়টি আমার ভায়রা জানেন’।ব্যাপারে মমিন মিয়ার ভায়রা এই মামলার সাক্ষী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আপনার নাম কীভাবে এজাহারে ঢুকলো, তা বলতে পারছি না। যদি নাম থেকেই থাকে তাহলে আমরা দুঃখপ্রকাশ করছি। এখনও আসামিদের তালিকা আমি দেখিনি। দেখার পর এটি সংশোধন করা যাবে। আদালত থানাকে এফআইআরভুক্ত করতে বলেছেন। পুলিশ তদন্ত করে চার্জশিট দেবে। তখন কে কে অভিযুক্ত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক ফারুক আলমের বিরুদ্ধে এই ধরনের চাপ ও হয়রানি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত বিষয়টির তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ