গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধ :মোঃ ফয়জুল ইসলাম লিমন : বাংলাদেশে কমিউনিটি স্পোর্টস টিম (Community Sports Team-CST) লেভেল-১ প্রশিক্ষণ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৭ জুন ২০২৬, শনিবার বিকেল ৫:৩০টা থেকে সন্ধ্যা ৭:১৫টা পর্যন্ত ঘোষেরচর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ কনফারেন্স হলে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন ওয়ার্ল্ড স্পোর্ট মিনিস্ট্রিজ (WSM)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মি. গ্রান্ট শেপার্ড। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে মেসিয়ানিক ফ্যামিলি সেন্টার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
এবারের প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী, বয়স ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী মোট ৩৮ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল খেলাধুলাকে একটি কার্যকর সামাজিক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা, সমাজে ইতিবাচক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করা।
প্রশিক্ষণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মি. গ্রান্ট শেপার্ড বাংলাদেশের মানুষের খেলাধুলার প্রতি গভীর আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত বা আগ্রহী। এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, “খেলাধুলা এমন একটি সার্বজনীন প্ল্যাটফর্ম, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভেদ দূর করে মানুষকে একত্রিত করতে পারে। খেলাধুলাভিত্তিক সমাজসেবা ও কমিউনিটি কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।”
এ সময় নেপাল থেকে আগত প্রশিক্ষণ সহযোগী মি. বুদ্ধ নেপালে কমিউনিটি স্পোর্টস টিম (CST) কার্যক্রম বাস্তবায়নের সফল অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ে খেলাধুলাভিত্তিক উদ্যোগ পরিচালনার কার্যকর কৌশল, অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার বাস্তব অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা খেলাধুলাকে নেতৃত্ব বিকাশ, সমাজসেবা, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার বাস্তব কৌশল ও দক্ষতা অর্জন করেন। পাশাপাশি দলগত নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা এবং কমিউনিটি উন্নয়নে খেলাধুলার ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কেও বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
কর্মসূচির শেষে আয়োজকরা সকল অংশগ্রহণকারীর আন্তরিক ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমিউনিটি স্পোর্টস টিম (CST) কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে খেলাধুলাকে সামাজিক উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেশের তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শান্তি, সহযোগিতা, নেতৃত্ব ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।