শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
গোপালগঞ্জে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভনের অভিযোগ; নারীর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে অভিযুক্ত পূর্বধলায় এমপি মানসুরা আক্তারের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ফকিরহাটে ৪ হাজার ১৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার-৪ আদমদীঘিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আদমদীঘিতে পরিত্যক্ত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল কর্তৃক উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের টাকা প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর পটুয়াখালীতে মাদক ব্যবসায়ীদের বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে জখম ৷ ফল উৎসব -২০২৬ইং উদযাপন করেন এ. টি. একাডেমী বাংলাদেশে সফলভাবে অনুষ্ঠিত CST লেভেল-১ প্রশিক্ষণ: খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও নেতৃত্ব বিকাশে নতুন দিগন্ত কাশিয়ানীতে অবসরপ্রাপ্ত আর্মি সার্জেন্টের গুদামে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ চুরি; লাখ টাকার কৃষিপণ্য ও মালামাল লুটের অভিযোগ, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি

গোপালগঞ্জে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভনের অভিযোগ; নারীর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে অভিযুক্ত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের প্রলোভন, প্রতারণা এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত চিকিৎসককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিহত নারীর পরিবার জানিয়েছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বেদগ্রামের বাসিন্দা অমিত বিশ্বাস দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় অভিযুক্ত চিকিৎসক নিয়মিত তাদের বাড়িতে চিকিৎসাসেবা দিতে যেতেন। সেই সূত্রে অমিতের স্ত্রী মিতু বিশ্বাসের সঙ্গে চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক গভীর হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, বিচ্ছেদের পর চিকিৎসক মিতুকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে বসবাস করেন। কিন্তু পরে বিয়ে এড়িয়ে গেলে মিতু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, এই হতাশার জের ধরে ১১ জুলাই ২০২৫ তিনি সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের গুয়াধানা এলাকার একটি শ্মশানের পাশে বিষপান করেন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোপালগঞ্জ ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ১৩ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মিতু বিশ্বাস নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নোলামারা গ্রামের অনুপ বিশ্বাসের মেয়ে। তার মৃত্যুর পর দুই সন্তান মাকে হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে।
মিতুর সাবেক শাশুড়ি দীপ্তি বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, এই চিকিৎসকের কারণে তাদের পরিবারে অশান্তি নেমে আসে। তবে তার এই বক্তব্য এবং অন্যান্য স্থানীয়দের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্ত চিকিৎসক এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেননি।
নিহতের স্বজনরা জানান, তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের দাবি, আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে অভিযুক্তকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ