ফয়জুল ইসলাম লিমন,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :৮ আগস্টের সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের অংশগ্রহণের ঘোষণা আয়োজকদের দাবি, থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীসহ দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত শ্রীধাম ওড়াকান্দী আগামী ৮ আগস্ট ২০২৬ (শনিবার) অনুষ্ঠিতব্য মতুয়া সম্মেলনকে ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। সম্মেলনকে সামনে রেখে দিন-রাত চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে সম্মেলনস্থল, প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকাজুড়ে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ তোরণ, রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন, আলোকসজ্জা এবং অতিথি অভ্যর্থনার বিভিন্ন আয়োজন। পুরো এলাকায় উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। আয়োজকদের প্রকাশিত ব্যানার ও প্রচারণা অনুযায়ী, এবারের সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহুর উদ্দিন, বিএনপির চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আলী জাফর (খুলনা-৫), সংসদ সদস্য কৃষ্ণ জয়ন্তীর আলম (নড়াইল-১), সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম (গোপালগঞ্জ-১), সংসদ সদস্য এস. এম. জেলানী (গোপালগঞ্জ-৩), সংসদ সদস্য কে. এম. বাবর (গোপালগঞ্জ-২)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনকে সফল করতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে আয়োজক কমিটি। প্রধান সড়ক থেকে শ্রীধাম ওড়াকান্দী পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে শুভেচ্ছা তোরণ, দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে। আগত ভক্ত, দর্শনার্থী ও অতিথিদের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, অস্থায়ী চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যসেবা বুথ, বিশ্রামাগার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যানজট এড়াতে বিকল্প চলাচল ব্যবস্থার বিষয়েও সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
আয়োজক সূত্র জানায়, দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ধর্মীয় প্রার্থনা, হরিনাম সংকীর্তন, মতুয়া দর্শন ও দর্শনের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা, সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক বক্তব্য, ধর্মীয় উপদেশ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ভক্তদের মিলনমেলার আয়োজন থাকবে। দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মতুয়া ভক্ত ও দর্শনার্থীর আগমনের সম্ভাবনা থাকায় অনুষ্ঠানকে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও সফল করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শ্রীধাম ওড়াকান্দী শুধু বাংলাদেশের নয়, উপমহাদেশের মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। প্রতিবছর এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন। ফলে এমন বৃহৎ সম্মেলন ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।সম্মেলন উপলক্ষে ইতোমধ্যে এলাকার হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন খাত, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, হাজারো দর্শনার্থীর আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও লাভবান হবেন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজক কমিটি যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। সম্মেলনস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগত অতিথি ও ভক্তদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সার্বিক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।সব মিলিয়ে, ঐতিহাসিক শ্রীধাম ওড়াকান্দীতে অনুষ্ঠিতব্য এবারের মতুয়া সম্মেলনকে ঘিরে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত, দর্শনার্থী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে এবারের সম্মেলন হবে স্মরণীয়, সুশৃঙ্খল এবং সফল।