প্রেস বিজ্ঞপ্তি : র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মজুতদারি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব ইতিমধ্যেই বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৮, সদর কোম্পানী, বরিশাল এবং র্যাব-১, সিপিসি-১, উত্তরা, ঢাকা এর যৌথ আভিযানিক দল অদ্য ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুরে ঢাকা মহানগরীর খিলখেত থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বাকেরগঞ্জ থানার চাঞ্চল্যকর আব্দুল হালিম হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত মনসুর ডাকুয়া (৫০), পিতা- মৃত জয়নাল ডাকুয়া, সাং- সাহেবপুর, থানা- বাকেরগঞ্জ, জেলা- বরিশাল’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মামলার এজাহারের বিবরণে জানা যায়, গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৩:৩০ ঘটিকার সময় গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মনসুর ডাকুয়া’সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে পূর্বশত্রুতার জের ধরে মামলার বাদী মেসার্স হাওলাদার এন্টারপ্রাইস এর স্বত্বাধিকারী মোঃ দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার (৫০) এর হেলেঞ্চাস্থ ব্রীজের ঢালে রড, সিমেন্ট, বালি ইত্যাদি বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠানে রামদা, দা, শাবল, রড ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গুরুতর জখম ও হত্যার উদ্দেশ্যে অনধিকার প্রবেশ করে আক্রমণ করে। বাদীর বড় ভাই ভিকটিম আব্দুল হালিম হাওলাদার উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্মুখে অবস্থান করে তাদেরকে আক্রমনে বাধা দেয়। আক্রমনের একপর্যায়ে বাদীর বড় ভাইকে প্রধান অভিযুক্ত মোঃ শফিকুল ইসলাম শাবল দিয়ে বুকে আঘাত করলে ভিকটিম উক্ত আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায় এবং মনসুর ডাকুয়া’সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা বাদীর বড় ভাইয়ের হাত,পা চেপে ধরে দুই পা সহ অন্যান্য স্থানে হত্যার উদ্দেশ্যে রড, শাবল ইত্যাদি দিয়ে একাধিক আঘাত করে গুরুতর জখম করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীগণ মামলার বাদী ও তার বড় ভাইকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে বাদীর বড় ভাই ভিকটিম আব্দুল হালিম হাওলাদারকে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ভাই মোঃ দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য যে, নির্মম এই হত্যাকান্ডের পর থেকেই র্যাব-৮, বরিশাল ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধী অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তার অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র্যাব-৮, বরিশাল সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঢাকা মহানগরীর বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।