শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার | বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবসের জাতীয় সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মেধার স্বীকৃতিতে সম্মাননা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার মানোন্নয়নে অতিথিদের নানা দিকনির্দেশনা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ছয়শত সাতচল্লিশ কোটি তিপ্পান্ন লক্ষ পঁচাশি হাজার তিনশত নয় টাকা প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা । বসতবাড়ি দখল, ভাঙচুর ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিচার চাইলেন অসহায় লাভলী ইয়াসমিন বিদেশে ব্যবসার প্রলোভন,টাকা নিয়ে টালবাহানা বিভিন্ন দপ্তরসহ থানায় অভিযোগ আমতলীতে তিন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ গোপালগঞ্জ আদালতে তোলপাড়: বিচারকের ছুড়ে মারা পেপার ওয়েটে নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহতের অভিযোগ, বিচারকাজ বর্জন ও বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন আইনজীবীরা কিশোর অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং মাদককে না’: অপরাধমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে বরিশাল জিলা স্কুলে র‍্যাব-৮ এর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ! সালিশে টাকা ফেরতের স্বীকারোক্তি, পরে টালবাহানা—পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী” মোল্লাহাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় পরিবারের কাছে ফিরল হারিয়ে যাওয়া প্রতিবন্ধী শিশু

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ছয়শত সাতচল্লিশ কোটি তিপ্পান্ন লক্ষ পঁচাশি হাজার তিনশত নয় টাকা প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা ।

সাবিনা ইয়াসমিন : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গত ১৪ মার্চ ২০২৬ খ্রি. তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ঘোষণার শুরুতেই তিনি শ্রদ্ধাঞ্জাপন করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিনওনাল কো-অপারেশন (সার্ক) এর প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এর প্রতি। তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি দেশের তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যিনি আপোষহীন ভাবে কাজ করে গেছেন সে আমাদের প্রিয় নেত্রী আমাদের মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি। আমি বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ বীর শহীদদের এবং দুই লক্ষ নির্যাতিত মা-বোন সহ সকল আত্মত্যাগী মানুষদের, শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলছি। একই সাথে স্মরণ করছি ৩৬ জুলাই ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান ও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে আত্মদানকারী সকল শহীদ এবং গুম-খুন-হামলা-মামলা ও গুলিবর্ষণের শিকার সকল আহত যোদ্ধাকে, যাদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় জীবনে গণতন্ত্র, অধিকার ও নতুন আশার দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো এই নগরী শুধু এই অঞ্চল নয় গোটা বাংলাদেশের ঐতিহ্যকেই ধারণ করে আছে। ঐতিহ্যবাহী এই নগরীর বর্তমান আয়তন প্রায় ৫৮ (আটান্ন) বর্গ কিলোমিটার। আর জনসংখ্যা প্রায় ০৬ (ছয়) লক্ষ। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয়ের উৎস তথা কর/ফিস/রেইটস ইত্যাদি থেকে আয় খুবই সীমিত। এই সীমিত আয়ের একটা বড় অংশই ব্যয় হয়ে যায় কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও অফিস পরিচালন ব্যয় মেটানোর কাজে। তারপরও নতুন করে কোন কর বৃদ্ধি না করে এবারের বাজেট প্রনয়ণ করা হয়েছে।আমরা জানি যে, বরিশালের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ খ্যাত এই বরিশালে জন্মগ্রহন করেছেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত, কবি জীবনানন্দ দাশ, চারণ কবি মুকুন্দ দাস, শহীদ আলতাফ মাহমুদ, সুফিয়া কামাল, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস ও মহান জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার এবং বর্তমান মহামান্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এর মত অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকা অনুন্নত হলেও এর অতীত ঐত্যিহ্যের কথা স্মরণ করে আমাদের মেধা ও আত্মা-মর্যাদাবোধ নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো ইন্‌শাআল্লাহ। আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এই নগরীকে সমৃদ্ধির একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বরিশাল মহানগরীকে আমরা এদেশের একটি মডেল নগরীতে পরিণত করতে চাই।দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ এ ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ আবার নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই যাত্রা পেরিয়ে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। দেশ ও জনগণের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বরাবরই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে জেকে বসা ফ্যাসিবাদ শাসনের বিরুদ্ধেও এদেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। ২০২৩ সালের যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার ভিত্তিতে বিএনপির নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে সেটিই ফ্যাসিবাদ-বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে। এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই সংঘটিত হয়েছে ২০২৪-এর ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, মেরামত ও রূপান্তরের ৩১ দফার পথ ধরে বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আরও সম্প্রসারিত প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদে উপস্থাপন করেছে।আপনারা সকলেই জানেন, আমি ছাত্রাবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছি। আমার ছাত্রজীবনে ১৯৮৫ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে আমার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৯০ সালে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমি এজিএস নির্বাচিত হই। ১৯৯১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও ১৯৯৬ সালে বরিশাল জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এর পাশাপাশি জেলা বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক একই বছর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হয়েছি পরে বরিশাল মহানগর মহিলা দলের সভাপতি, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় সদ্য প্রয়াত তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন আমার মাতৃতুল্য পরম শ্রদ্ধাভাজন বেগম খালেদা জিয়া অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে আমি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করছি।বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নারী প্রশাসক হিসেবে ১৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি. তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ উপলক্ষ্যে নগর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিরলস শ্রম ও ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে জনপ্রতি ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার টাকা) হারে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৩৭৮ (এক হাজার তিনশত আটাত্তর) জন কে মোট ৬৮,৯০,০০০/= (আটষট্টি লক্ষ নব্বই হাজার টাকা মাত্র) প্রদান করা হয়েছে এবং ঈদ-উল-আযহা ২০২৬ উপলক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে সমপরিমান টাকা ঈদ উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। যা বিগত কোন সরকার প্রধান এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই।তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে নগরীর ড্রেন ও খালগুলোর স্লাজ অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ প্রদান করেছি।নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণের জন্য রূপাতলীতে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট উদ্বোধন করা হয়েছে।বরিশাল নগরীর ফুটপাত, সড়ক, বেলস পার্ক, চৌমাথা লেকের পাড় ও বিবির পুকুর পাড় থেকে অবৈধ হকার ও স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নগর ভবনের পিছনে “বিসিসি হকার্স মার্কেট” ও কেডিসি এলাকায় “কেডিসি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আপন ঠিকানা” নামে বিসিসি হকার্স মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে আরো কিছু হকার্স মার্কেট নির্মাণ করা হবে।বরিশাল মহানগরীকে দৃষ্টি নন্দন এবং নগরবাসীর বিনোদন সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন চৌমাথা লেকে মিউজিক্যাল ফোয়ারা স্থাপন করা হয়েছে। বিবির পুকুরে ফোয়ারা স্থাপনসহ বিভিন্ন পার্ক সংস্কার ও লাইটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে।জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ টেকসই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন বিনির্মাণ আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সমগ্র বাংলাদেশে পাঁচ বছরে পঁচিশ কোটি বৃক্ষ রোপনের অংশ হিসেবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) বৃক্ষ রোপণ করা হবে। বৃক্ষ রোপনের ব্যাপারে বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ব্র্যাক এবং পূবালী ব্যাংক পিএলসি, বরিশাল প্রধান শাখা আমাদের পাশে আছে।বেলস পার্কের পূর্ব পাশে মানচিত্র ভাস্কর্য “সবার আগে বাংলাদেশ” স্থাপন করা হয়েছে।কুকুরের বংশবৃদ্ধি রোধকল্পে কুকুরের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে ও কুকুরের উপদ্রব থেকে নারী, শিশুসহ সকল নাগরিকদের বাঁচার জন্য একটি ডগসেট নির্মাণ করার জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।বছরের বাজেটে নারীদের জন্য আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নগরীর বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীতে একটি মার্কেট নির্মাণ করা হবে। যেখানে নারীরা সহজ শর্তে স্টল বরাদ্দ নিয়ে তাদের তৈরি পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন। ২০২৬-২০২৭ অর্থ-বছর থেকে অসচ্ছল অসহায় বিচারপ্রার্থী নারীদের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে আইনী সহায়তা দেওয়া হবে।শিশুদের বিনোদনের কথা চিন্তা করে গ্রীন সিটি পার্কে বিভিন্ন ধরনের রাইডার সংখ্যা বৃদ্ধি করে পার্কটি সংস্কার করা হবে। শিশুদের সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বেড়ে ওঠার পেছনে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিশুর মনকে প্রফুল্ল রাখে এবং বুদ্ধিমত্তা, আবেগ ও সামাজিক গুণাবলী বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এ সকল বিষয় বিবেচনা করে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেটে শিশুদের খেলাধুলা সরঞ্জাম ক্রয় শিশুদের বিভিন্ন ইভেন্টে খেলাধুলা প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে । সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বা আয়না বলা হয়। আয়নায় যেমন মানুষের আসল রূপ দেখা যায়, সাংবাদিকরা তেমনি লেখনীর মাধ্যমে সমাজের ভালো ও মন্দ কাজের সঠিক চিত্র তুলে ধরে। বরিশাল প্রেসক্লাব ও বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি হলো সাংবাদিকদের পেশাগত যোগাযোগ রক্ষা, সংবাদ সম্মেলন, মতবিনিময় ও মাঠপর্যায়ে কর্মরত পেশাদার সংবাদকর্মীদের অন্যতম পেশাজীবি সংগঠন। বরিশাল প্রেসক্লাব ও বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি ভবন সংস্কারের জন্য ২০২৬-২০২৭ অর্থ-বছরে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা,পরিচ্ছন্নতা বিভাগ প্রতিদিন নগরীর ৩০ টি ওয়ার্ডের প্রায় ২০০ (দুইশত) টন বর্জ্য পরিষ্কার করে। জলাবদ্ধতা নিরসন ও এডিস মশা প্রতিরোধকল্পে নগরীর গভীর ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করা হচ্ছে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসী উপকৃত হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে গার্বেজ গ্রাউন্ডের জন্য জমি অধিগ্রহণ/ক্রয় করা হবে। গত ২২.০৬.২০২৬ ইং তারিখ দক্ষিণ কোরিয়ার Bioltee Co. Ltd এর সাথে একটি MOU চুক্তি স্বাক্ষরীত হয়েছে। যার মাধ্যমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বর্জ্য অপসারণের জন্য ৪ টি ডাম্প ট্রাক, মেডিকেল বর্জ্য অপসারণের জন্য ১ টি কম্প্যাক্টর ট্রাক ও মানব বর্জ্য অপসারণের জন্য ১ টি ভ্যাকুয়াম ট্রাক ক্রয় করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নির্বিঘ্নে কাজ করার জন্য রেইনকোট সরবরাহ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সুফল হিসেবে গত ঈদুল আযহার বর্জ্য অপসারণের জন্য সরকার কর্তৃক ঘোষিত ১২.০০ ঘন্টা সময় সীমা থাকলেও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন মাত্র ০৬.০০ ঘন্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করে নগরবাসীদের একটি পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা/কর্মচারী, শ্রমিক ও ঝাড়ুদারদের ধন্যবাদ জানাই। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান সকলের সহযোগীতা থাকলে আগামীর বরিশাল পরিচ্ছন্ন নগরী হিসাবে গড়া সম্ভব।নগরবাসীর জন্য নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও নিরবিচ্ছিন্ন সুপেয় পানি নিশ্চিত করা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার সেবা। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নমুখী কর্মপরিকল্পনা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিবিড় তত্ত্বাবধান ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকসেবা ডিজিটাল রূপান্তরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর রূপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে নিরাপদ পানি উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বেলতলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালুর প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়া ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কীর্তনখোলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে নগরীর দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত ও টেকসই করার লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং বর্ধিত এলাকায় দ্রুতগতিতে ৪ ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি ব্যাসের নতুন পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলমান আছে এর মাধ্যমে নতুন নতুন এলাকাকে নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং বিদ্যমান গ্রাহকদের জন্যও পানি সরবরাহের মান ও নিরবিচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। ফলে নগরবাসীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জিত হবে।২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১,০৬৪ (এক হাজার চৌষট্টি) টি নতুন পানি সংযোগের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক পরিবার নিরাপদ ও মানসম্মত পানি সরবরাহ সেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।অনলাইনভিত্তিক করা।আবেদনটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণসহ সমগ্র প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। এর ফলে নাগরিকদের বারবার দপ্তরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমেছে, আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে, সেবাপ্রাপ্তির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দক্ষ, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতেও পানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক পানি শোধনাগার স্থাপন, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিকসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, টেকসই, স্মার্ট ও জনবান্ধব পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন ও সেবার এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।নগরবাসীর স্বার্থে ২০২৬-২০২৭ অর্থ-বছরে একটি পানির এটিএম বুথ স্থাপন করা হবে। পানির এই এটিএম বুথ থেকে
সর্বস্তরের জনগণ সুপেয় পানির মাধ্যমে তৃষ্ণা মেটাতে পারবেন।প্ল্যান অনুমোদন :-দীর্ঘ দিনের প্ল্যান অনুমোদনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. থেকে ৩০ জুন ২০২৬ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত ১৩৯৬ (এক হাজার তিনশত ছিয়ানব্বই) টি প্ল্যানের অনুমোদন দিয়েছি। এত দ্রুত পূর্বে কখনো এত প্ল্যান অনুমোদন দেয়া হয় নাই।সড়ক বাতি ব্যবস্থাপনা,নগরীর বিভিন্ন সড়ক আলোকায়নের সঠিক হিসাব পরিমাপের জন্য বিদ্যুৎ শাখার মাধ্যমে বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের বর্ধিত এলাকার প্রধান সড়কসমূহের ত্রুটিপূর্ণ বিসিসির বৈদ্যুতিক খুটি, এলইডি বাল্ব, ANT তার ও লাইট সেড এর পূর্নাঙ্গ সড়ক বাতির সঠিক অবস্থা সার্ভে করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তদনুযায়ী নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে, তাছাড়া ত্রুটিপূর্ন লাইন ও লাইটসমূহ অতি শীঘ্র প্রতিস্থাপন করা হবে। বর্তমানে শহর ও বর্ধিত এলাকার রাস্তার এলইডি বাল্ব ও হোল্ডার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। বিগত বছর গুলোতে নগরীর ৩০ (ত্রিশ) টি ওয়ার্ডে সিএফএল এনার্জি বাল্বের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি বাল্ব প্রতিস্থাপন করার ফলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক বিদ্যুৎ বিল ২০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হয়েছে। বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সরকারী বাল্ব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি বাল্ব ০২ বছরের গ্যারান্টিতে ক্রয় করার ফলে এ খাতে ব্যয় কমেছে এবং বিগত বছরে প্রায় ১০,০০০ (দশ হাজার) টি এলইডি বাল্ব রিপ্লেসমেন্ট করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়কসমূহে ডেকোরেটিভ অর্নামেন্টাল এলইডি লাইট স্থাপনের জন্য বৈদ্যুতিক শাখার মাধ্যমে ২৪,৭৫,৯৯,০০০/= (চব্বিশ কোটি পঁচাত্তর লক্ষ নিরানব্বাই হাজার) টাকার ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ডিপিপি টি অনুমোদিত হলে ১৬,০৯৪ (ষোলো হাজার চুরানব্বই) টি পোল এবং ২০,৫০৯ (বিশ হাজার পাঁচশত নয়) টি নতুন সড়কবাতি স্থাপন করা যাবে। এর ফলে শহর ও বর্ধিত এলাকার সার্বিক অবকাঠামোগত মান উন্নত হবে এবং একটি আধুনিক ও নিরাপদ নগর গড়ে উঠবে। এছাড়াও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সোলার প্যানেলযুক্ত স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হবে।জলাবদ্ধতা দূরীকরণ,জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে মহানগরীর প্রধান প্রধান ড্রেনসমূহের মধ্যে অবস্থিত দীর্ঘদিনের ময়লা আর্বজনা বা স্লাজ অপসারণ করা হয়েছে। যার ফলে গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষন সত্ত্বেও নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। বরিশাল মহানগরীর বিদ্যমান জেলখাল, আমানতগঞ্জ খাল, সাগরদী খাল, লাকুটিয়া খালসহ প্রধান প্রধান খালসমূহ দীর্ঘদিন সংস্কার/পুনঃ খননের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে উপরোক্ত খালসমূহ পুনঃ খনন, খালের পাড় সংরক্ষণসহ পুনরুদ্ধারের জন্য ৭৬৯,৪০,০০,০০০/= (সাতশত উনসত্তর কোটি চল্লিশ লক্ষ) টাকার প্রকল্পের ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে এবং একনেক সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, অনুমোদন পাওয়া গেলে খালসমূহ পুনঃখনন করা হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে।মশক নিধনের জন্য ০৬ (ছয়) টি টিম করে প্রতিদিন সকালে মশার লার্ভা নিধনের জন্য স্প্রে-মেশিনের মাধ্যমে লার্ভিসাইড কাঁটনাশক স্প্রে করা হয় এবং প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উড়ন্ত মশা নিধনের জন্য ফগার মেশিনের মাধ্যমে অ্যাডাল্টিসাইড কীটনাশক ফগিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিন একই কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মশার সহনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা পূর্বের কীটনাশক ঔষধ পরিবর্তন করেছি। স্প্রে মেশিন, ফগার মেশিন ও কীটনাশক ক্রয়ের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।অটোমেশন কার্যক্রম ৪-বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগ এর আওতায় কর আদায় শাখা, কর ধার্য শাখা, ট্রেড লাইসেন্স (নতুন, নবায়ন, নাম পরিবর্তন, স্থান পরিবর্তন, শ্রেণী পরিবর্তন) প্ল্যান অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র এবং সকল প্রকার ছাড়পত্র ও সনদপত্র অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা,বরিশাল মহানগরীর ৩০ (ত্রিশ) টি ওয়ার্ডে প্রতিমাসে ২৫৬ (দুইশত ছাপ্পান্ন) টি কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশু ও মহিলাদের বিভিন্ন রোগ (শিশুদের যক্ষ্মা, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হেপাটাইটিস-বি, পোলিও, নিউমোনিয়া, হাম-রুবেলা মহিলাদের টিডি) ইত্যাদি টিকা প্রদান করা হয়। ২০২৫-২০২৬ সালে সর্বমোট ১০,৪৭৯ (দশ হাজার চারশত ঊনআশি) জন শিশু ও মহিলাদের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও এই অর্থবছরে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৯৮,০০১ (আটানব্বই হাজার এক) জনকে টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হয়েছে, হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মোট-৪৩,৮৫০ (তেতাল্লিশ হাজার আটশত পঞ্চাশ) জনকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হয়েছে। জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মোট ৫৮,৫৫৭ (আটান্ন হাজার পাঁচশত সাতান্ন) জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একটি সচেতনামূলক র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে।এছাড়া ও মহানগরীর তিনটি জোনে আগামী অর্থ বছর থেকে নারী ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ সরবরাহ করা হবে।বরিশাল মহানগরীর পরেশ সাগর মাঠ, গোরস্থান রোড প্রাইমারী স্কুলের মাঠ, বিএম স্কুল মাঠ, কাশিপুর হাই স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ, কলাডেমা প্রাইমারী স্কুল মাঠ দীর্ঘদিন উন্নয়নের অভাবে বর্তমানে খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ছাত্র ছাত্রীদের খেলাধুলায় বিঘ্নতা সৃষ্টি হচ্ছে, তাই উল্লিখিত মাঠগুলো সমতলকরণ, খেলার উপযোগী সরঞ্জাম স্থাপন ও খেলার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে খেলার মাঠ উন্নয়ন করে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক দক্ষতা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বরাবর একটি ডিও লেটার প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া ও নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করার জন্য স্থান নির্বাচনের কাজ চলমান রয়েছে। স্থান নির্বাচন হলে অতি শীঘ্রই সরকার খেলার মাঠ উন্নয়নের কাজ শুরু করবে।জনস্বার্থে ও নগরবাসীর জন্য নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ডস্থ কাশিপুর চৌমাথায় সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জমিতে “লাইভ-স্টক এন্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট” (এলডিডিপি) এর আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি “আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কশাইখানা” নির্মাণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর একটি ডিও লেটার প্রেরণ করা হয়েছে।চরম দারিদ্রদ্র্য পীড়িত ও নিম্ন আয়ের হরিজন (ঝাড়ুদার, মেথর ও হেলা) এবং ডোম সম্প্রদায়ের মৌলিক আবাসন সংকট নিরসনে (কাউনিয়া পানির ট্যাংক কম্পাউন্ড এবং ০১ নং ওয়ার্ডস্থ মহাশ্মশান সংলগ্ন নিজস্ব ভূমি) মোট ০২ টি ০৬ (ছয়) তলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করছি অতি শীঘ্রই বরাদ্দ পাওয়া যাবে।জনস্বার্থে বরিশাল মহানগরীতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীদের অধিক হারে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে নগরীতে বসবাসকারী কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন সুবিধা প্রদানের নিমিত্ত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় “কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল” নির্মাণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার প্রেরণ করা হয়েছে।প্রায় ৫৮ (আটান্ন) বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এই মহানগরীর ৩০ (ত্রিশ) টি ওয়ার্ডে প্রায় ০৬ (ছয়) লক্ষ লোকের বসবাস। কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলের ঐতিহ্য, নদী-খাল বেষ্টিত ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রাণবন্ত জনজীবন একে করেছে অনন্য মর্যাদার অধিকারী। এতো সম্ভাবনাময় একটি বিভাগীয় শহর এখন পর্যন্ত কোন ভালো মানের বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর সাথে একান্ত আলোচনায় মাননীয় মন্ত্রী বরিশালে একটি ইকো পার্ক নির্মাণের ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আশা করছি অতি শীঘ্রই ইকো পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে ইন্‌শাআল্লাহ।আওতায় ৪২.০০ (বিয়াল্লিশ) কিঃ মিঃ বিটুমিনাস কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণ/ পুনঃ নির্মাণ, ৪.৫০ (চার দশমিক পাঁচ শূন্য) কিঃ মিঃ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, ৮.৫০ (আট দশমিক পাঁচ শূন্য) কিং মিঃ সিসি দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৬.৫০ (ষোলো দশমিক পাঁচ শূন্য) কিঃ মিঃ আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে এবং আধুনিকমানের রাস্তা নির্মাণের জন্য ২টি এ্যাসফল্ট পেভার মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়া বিসিসির নিজস্ব অর্থায়নে সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের স্বার্থে বান্দ রোড- (প্রস্তাবিত কবি কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক), বি এম কলেজ রোড, বীরশ্রেষ্ট ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক (সদর রোড), হাসপাতাল রোড সহ বিভিন্ন সড়কে রোড মার্কিং ও কার্ডস্টোনে রং করণ সহ বেশ কিছু শাখা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া জরুরী ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের পকেট স্লাব স্থাপনসহ বিভিন্ন সড়কের পটহোল মেরামত করা হয়েছে।চলমান প্রকল্পসমূহঃ(ক) ডিপিপি অর্থায়িত প্রকল্প:
০১। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন রাস্তা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প। প্রকল্প ব্যয়ঃ-৭৯৭,০৬,৬৩,০০০/= (সাতশত সাতানব্বই কোটি ছয় লক্ষ তেষট্টি হাজার টাকা মাত্র)।এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থ-বছরে ২৮৫,০০,০০,০০০ /= (দুইশত পঁচাশি কোটি টাকা মাত্র) ব্যয় করা হবে।(খ) উন্নয়ন অংশীদার অর্থায়িত প্রকল্প:০১। স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ রেসপন্স এন্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সড়ক ও নিকাশ কাঠামো উন্নয়নের জন্য ৫,৯৬,১১,৬৩৯/= (পাঁচ কোটি ছিয়ানব্বই লক্ষ এগারো হাজার ছয়শত ঊনচল্লিশ) টাকা মাত্র ব্যয় করা হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পসমূহ,বরিশাল মহানগরীর অবকাঠামো, ড্রেনেজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত প্রকল্প প্রস্তাব ও ডিপিপি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে।০১। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন খাল সম্প্রসারণ পাড় সংরক্ষণসহ পুনঃউদ্ধার ও পুনঃখনন কাজ (১ম পর্ব)। প্রকল্প ব্যয়: ৭৬৯,৪০,০০,০০০/= (সাতশত উনসত্তর কোটি চল্লিশ লক্ষ) টাকা মাত্র।০২। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কীর্তনখোলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ প্রকল্প: প্রকল্প ব্যয়-৪৮,৮২,৬৮,০০০/= (আটচল্লিশ কোটি বিরাশি লক্ষ আটষট্টি হাজার টাকা মাত্র)।০৩। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জন্য ১৫ তলা নগর ভবন থেকে বেইজমেন্টসহ নির্মাণ প্রকল্প। প্রকল্প ব্যয়: ১৯৫,৬৯,১৪,০০০/= (একশত পঁচানব্বই কোটি ঊনসত্তর লক্ষ চৌদ্দ হাজার) টাকা মাত্র।০৪। বরিশাল শহরের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন প্রোগ্রাম ২য় পর্যায়। প্রকল্প ব্যয়: ৩০৯,১৬,২৯,০০০/= (তিনশত নয় কোটি ষোলো লক্ষ উনত্রিশ হাজার টাকা মাত্র)।০৫। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিনটি ফুটওভার ব্রীজ ও বরিশাল সিটি অডিটোরিয়াম সংস্কার কাজ প্রকল্প। প্রকল্প ব্যয়: জিওবি ৪৯,৯৬,০০,০০০/= (উনপঞ্চাশ কোটি ছিয়ানব্বই লক্ষ টাকা মাত্র)।০৬। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর আওতাধীন বাংলা বাজার, বিসিক শিল্প নগরী, কালিজিরা বাজার, এবং ফিশারি রোড এলাকায় ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প।প্রকল্প ব্যয়: ১৪,৬১,১৪,০০০/= (চৌদ্দ কোটি একষট্টি লক্ষ চৌদ্দ হাজার টাকা মাত্র)।০৭। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ডেকোরেটিভ অর্নামেন্টাল সড়ক বাতি স্থাপন প্রকল্প। প্রকল্প ব্যয়: ২৪,৭৫,৯৯,০০০/= (চব্বিশ কোটি পঁচাত্তর লক্ষ নিরানব্বই হাজার টাকা মাত্র)।০৮। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জেল খাল, লাকুটিয়া খাল এবং নথুল্লাবাদ খাল পুনঃখনন প্রকল্প। প্রকল্প বায়: ১০,০০,০০,০০০/= (দশ কোটি টাকা মাত্র)।০৯। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সমন্বিত ভৌত অবকাঠামো প্রকল্প। প্রকল্প ব্যয়: ১৯৩০,০০,০০,০০০/= (এক হাজার নয়শত ত্রিশ কোটি টাকা মাত্র)।১০। কীর্তনখোলা নদীর পশ্চিম পাড়ে বন্যা প্রতিরোধ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প।প্রকল্প ব্যয়: ৫৩৩,০০,০০,০০০/= (পাঁচশত তেতত্রিশ কোটি টাকা মাত্র)।এছাড়াও নিম্নলিখিত প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রেরণ করা হয়েছে।১১। ডোম সম্প্রদায়ের জন্য ০৬ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ।প্রাক্কলিত ব্যয়: ১২,০০,০০,০০০/= (বারো কোটি টাকা মাত্র)১২। হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য ০৬ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ।প্রাক্কলিত ব্যয়: ১২,০০,০০,০০০/= (বারো কোটি টাকা মাত্র)নগরবাসী, সরকার, সরকারি-বেসরকারি সংগঠন আমাদের যত বেশি সহযোগিতা প্রদান করবেন এবং আমাদের কাজের সাথে সম্পৃক্ত হবেন আমাদের সাফল্যের পরিমানও তত বেশি অর্জিত হবে। আপনারাও এর বাইরে নন। এই মহানগরীর সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনারা সর্বদাই আমাদের কাজের দিকে লক্ষ্য রাখবেন। আমাদের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। কোথাও বিচ্যুতি হলে ধরিয়ে দিবেন। আমরা আরো ভালোভাবে কাজ করার প্রেরণা লাভ করবো।নগরীর জনসংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য রাজস্ব আয় বৃদ্ধিও আবশ্যক। কিন্তু আমাদের এখানে তেমনভাবে শিল্পায়ন না হওয়ায় রাজস্ব আয় বাড়ানোও কষ্টসাধ্য। এখন আমরা যেটা করতে পারি সবক্ষেত্রে অপচয় রোধ করা। দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং এভাবে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা। আমরা সে পথেই অগ্রসর হচ্ছি। আশা করছি কর্পোরেশনের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় থাকবে এবং করবৃদ্ধি না হলেও নগরবাসী পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি নাগরিক সুবিধা লাভ করবেন।তিনি বলেন, এখন স্থানীয় সরকার নির্দেশিত বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম অবলম্বনে সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রনীত অভিন্ন বাজেট ফরমের আলোকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট ও ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করছি। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৫২০,৮৬,১৬,৯২৮/= (পাঁচশত বিশ কোটি ছিয়াশি লক্ষ ষোলো হাজার নয়শত আঠাশ টাকা মাত্র)। সংশোধিত হয়ে তা দাঁড়িয়েছে ৪৬২,৮৬,২২,৮৩৭/= (চারশত বাষট্টি কোটি ছিয়াশি লক্ষ বাইশ হাজার আটশত সাঁইত্রিশ টাকা মাত্র)। আমি এখন ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট ৬৪৭,৫৩,৮৫,৩০৯/= (ছয়শত সাতচল্লিশ কোটি তিপ্পান্ন লক্ষ পঁচাশি হাজার তিনশত নয় টাকা মাত্র) ঘোষণা করছি।ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিকল্পিত, সবুজ, পরিচ্ছন্ন, নারী ও শিশুবান্ধব স্মার্ট মহানগরী গড়তে সকল নাগরিকের কাছে সহযোগিতা কামনা করে এবং সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজকের এই বাজেট বক্তৃতা এখানেই শেষ করে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ