প্রেস বিজ্ঞপ্তি : র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মজুতদারি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব ইতিমধ্যেই বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মোঃ সাহাবুদ্দিন হাওলাদার(৪৮) ও আল আবির(২২)’সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা একদলবদ্ধ হয়ে যোগসাজশে মামলার ভিকটিম মোস্তফা কামাল(৪৫), বাদল রতনপুর, কাজিরহাট, বরিশাল’কে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত অনুমান ২০:০০ ঘটিকার সময় বাজার থেকে ফিরার পথে কাজিরহাট থানাধীন ০৭ নং ভাষানচর ইউপিস্থ ০১ নং ওয়ার্ডের ছৈয়মতক্তা গ্রামের জনৈক মানিক ঘরামির রেইন্ট্রি-কড়াই কাঠ বাগান সংলগ্ন পায়ে হাটা পথের উপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা, চাপাতি, লোহার রড, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পথ রোধ করে আক্রমন করে। ভিকটিম ভয়ে দৌড়ে পালানোর সময় গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিন হাওলাদার ভিকটিমকে জরিয়ে ধরে এবং গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তের হাতে থাকা লোহার হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের মাথায় আঘাত করলে ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায়। পরবর্তীতে, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদ্বয়সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা হাতে থাকা হাতুড়ী দিয়ে ভিকটিমের পিটিয়ে উভয় হাত ও পা ভেঙ্গে গুড়াগুড়া করে ফেলে ও রামদা দিয়ে ভিকটিমের বাম হাত ও ডান পায়ের হাঁটুর নিচে কোপাইয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়াও, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ভিকটিমের ডান পা ভেঙ্গে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।অতঃপর, ঘটনাস্থলে উপস্থিত মন্টু বয়াতীর ডাক চিৎকারে আশেপাশের এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে ঘটনাস্থল হতে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। আশেপাশের লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে রাত অনুমান ২২:৩০ ঘটিকায় ভর্তি করে। উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম গত ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত অনুমান ০০:৪৫ ঘটিকায় মারা যান। পরবর্তীতে, ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে র্যাব-৮, সদর কোম্পানি, বরিশাল ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধীরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তার অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান সনাক্ত করে র্যাব-৮, সদর কোম্পানী, বরিশাল এবং র্যাব-১, সিপিসি-২, উত্তরা, ঢাকা এর চৌকস আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপি ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানাধীন সোনারগাঁও জনপথ রোড, সেক্টর-১২, বাড়ী নং-০৫ এর সামনে হতে উক্ত মামলার মুলহোতা অভিযুক্ত মোঃ সাহাবুদ্দিন হাওলাদার(৪৮), পিতা- মৃত জালাল হাওলাদার, সাং- চিলমারী, থানা- কাজিরহাট, জেলা- বরিশাল এবং ডিএমপি উত্তরা পশ্চিম থানাধীন সোনারগাঁও জনপথ রোড, সেক্টর-১৩, প্লট নং-২৯, বিসমিল্লাহ হোটেলে এন্ড রেস্টুরেন্টের এর সামনে হতে অভিযুক্ত আল আবির (২২), পিতা- আনিচ হাওলাদার, সাং- চিলমারী, থানা- কাজিরহাট, জেলা- বরিশাল’দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদ্বয়কে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ডিএমপি, ঢাকার বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।