ফয়জুল ইসলাম লিমন,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধ:গোপালগঞ্জের আদাবলতপাড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহত হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুজন মিয়ার ছুড়ে মারা পেপার ওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। বিচারকাজ বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অভিযুক্ত বিচারকের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) একটি মামলার শুনানিকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হঠাৎ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় বিচারক সুজন মিয়া এজলাস থেকে একটি পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানা আহত হন। ঘটনার খবর দ্রুত আদালতপাড়ায় ছড়িয়ে পড়লে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা বিচারকাজ বর্জনের ঘোষণা দেন। পরে বার ভবনের সামনে জড়ো হয়ে তাঁরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি আদালত প্রাঙ্গণের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বার ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে আইনজীবী নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আদালত ন্যায়বিচারের প্রতীক। সেখানে যদি একজন আইনজীবীর নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে তা বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি অভিযুক্ত বিচারককে অপসারণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
ঘটনার পর আদালত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
এদিকে অভিযুক্ত বিচারকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আদালত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক (আমলি) ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ঘটনাটি নিয়ে গোপালগঞ্জের আইন অঙ্গন, সাধারণ মানুষ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সবার।