শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
গোপালগঞ্জে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভনের অভিযোগ; নারীর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে অভিযুক্ত পূর্বধলায় এমপি মানসুরা আক্তারের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ফকিরহাটে ৪ হাজার ১৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার-৪ আদমদীঘিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আদমদীঘিতে পরিত্যক্ত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল কর্তৃক উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের টাকা প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর পটুয়াখালীতে মাদক ব্যবসায়ীদের বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে জখম ৷ ফল উৎসব -২০২৬ইং উদযাপন করেন এ. টি. একাডেমী বাংলাদেশে সফলভাবে অনুষ্ঠিত CST লেভেল-১ প্রশিক্ষণ: খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও নেতৃত্ব বিকাশে নতুন দিগন্ত কাশিয়ানীতে অবসরপ্রাপ্ত আর্মি সার্জেন্টের গুদামে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ চুরি; লাখ টাকার কৃষিপণ্য ও মালামাল লুটের অভিযোগ, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিভোর্সের সাত বছর পর হত্যা চেষ্টা, যুবক আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের সাত বছর পর মধ্যরাতে সাবেক স্ত্রীর ঘরে ঢুকে হত্যাচেষ্টাকালে পিয়ারুল নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের হড়মাঘাট বানু মন্ডলের টোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়রা ধারালো অস্ত্রসহ ওই যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক স্বামী একই ইউনিয়নের হড়মা পশ্চিমপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে পিয়ারুল ইসলামকে একমাত্র আসামী করে নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী গৃহবধু হাবিবা খাতুন (২৫)।
জানা যায়, ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পারিবারিক সম্মতিতে ২০১৭ সালে বিয়ে হয় হাবিবা খাতুন ও পিয়ারুল ইসলামের। এরপর স্বামীর নানারকম অত্যাচার ও শারিরীক নির্যাতনের কারণে বনিবনা না হওয়ায় হাবিবার পরিবার বিয়ের ঠিক এক বছর পর ২০১৮ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ করিয়ে নেন। একই সালে আবারও পারিবারিকভাবে দেবিনগর ইউনিয়নের হড়মাঘাট বানু মন্ডল এলাকার এলাহীর সাথে বিয়ে হয় হাবিবার। সাত বছরের সংসারে বর্তমানে দুই সন্তানের জননী হাবিবা। কিন্তু সাবেক স্বামী নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে হাবিবাকে।এ বিষয়ে মামলার বাদি হাবিবা খাতুন বলেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে কয়েল আনতে বাড়ির বাইরে যান আমার স্বামী এলাহী। এ সময় আমি আমার দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। এই সুযোগে ঘরে প্রবেশ করে পিয়ারুল আমার গলায় ছুরি ধরে। এ সময় ধ্বস্তাধ্বস্তির এক পর্যায়ে চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়দের দেখে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে পুলিশে খবর দিলে ছুরিসহ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।তিনি আরো বরেন, পিয়ারুলের সাথে ৭ বছর আগেই সবার সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। কিন্তু এরপরেও রাস্তাঘাটে আমাকে নানাভাবে বিরক্ত ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। আর এর প্রতিবাদ করলেই নানারকম ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। আমার স্বামী ও পরিবার এসব বিষয়ে জানে। আর সোমবার রাতে হঠাৎ করে ঘরে প্রবেশ করে গলায় ছুরি ধরে হত্যার চেষ্টা করে। পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে গেলেও এরপর থেকে গলায় ছুরি ধরার ঘটনা মনে পড়লেই এখনও অনেক আতঙ্ক লাগছে। ভয়ের মধ্যে দিন পার করছি। আর তাই ন্যায় বিচারের দাবিতে মামলা দায়ের করেছি।
প্রত্যক্ষদর্শী তরিকুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে চিৎকার শুনে আমরা ছুটে এসে দেখি পালিয়ে যাচ্ছে পিয়ারুল। এ সময় তাকে আটকে রেখে পুলিশকে আমরা খবর দেয়। পরে পুলিশ ছুরিসহ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান বলেন, স্থানীয়রা আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে ছুরিসহ তাকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। সোমবার রাতে এই ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী নারী হাবিবা মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ