প্রেস বিজ্ঞপ্তি : র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মজুতদারি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব ইতিমধ্যেই বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৮, সদর কোম্পানী, বরিশাল এবং র্যাব-৩, সিপিসি-২, মগবাজার, ঢাকা এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ রাতে যৌতুকের দাবীতে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক অভিযুক্ত ০১। মোঃ তৌহিদুর রহমান ওরফে তুহিন (২২), পিতা- নানু মীর, সাং-গুয়াটন, থানা-ঝালকাঠি সদর, জেলা-ঝালকাঠি’কে ডিএমপি ঢাকার শাহাজানপুর থানাধীন মালিবাগ রেলগেইট এলাকা হতে এবং ০২। নান্নু মীর (৪৫), পিতা- মৃত আনোয়ার আলী মীর, সাং-গুয়াটন, থানা- ঝালকাঠি সদর, জেলা-ঝালকাঠি’কে ডিএমপি ঢাকার সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মামলার এজাহারের বিবরণে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মোঃ তৌহিদুর রহমান ভিকটিম আখি আক্তারের স্বামী। গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখ তাদের ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয় এবং তাদের ১১ মাসের একটি কন্যা সন্তান আছে। উল্লেখ্য যে, বিবাহের পর থেকে অভিযুক্ত মোঃ তৌহিদুর রহমান তার মা-বাবার যোগসাজশে যৌতুকের দাবীতে ভিকটিমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসতো। যৌতুকের দাবীতে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদ্বয়সহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন মিলে গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তরিখ সন্ধ্যা থেকে গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তরিখে রাত ৪:০০ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় ভিকটিমকে পরিকল্পিতভাবে শারীরিক নির্যাতন করে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করার পর বাথরুমের ফ্যানের উপরে ঝুলিয়ে রাখে মর্মে এজাহারের বিবরণ হতে জানা যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বরিশাল বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতের আদেশে বরিশাল বিমানবন্দর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।উল্লেখ্য যে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকেই র্যাব-৮, ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তদ্বয় অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তাদের অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র্যাব-৮, সদর কোম্পানী, বরিশাল সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে অভিযুকাতদ্বয়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদ্বয়কে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঢাকা মহানগরীর হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়।