প্রেস বিজ্ঞপ্তি : এলিট ফোর্স র্যাব তার সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই জঙ্গী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজকারী, চোরাচালানকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানা এলাকায় সংঘটিত আলোচিত দস্যুতা সংগঠন কালে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যা কান্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের কিশোরগঞ্জ হতে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ঘটনার বিবরণঃ এজাহার সূত্রে জানা যায়, পরেশ দাস (৮০), পিতা- মৃত- সুরিন চন্দ্র দাস, মাতা- মৃত- বুরি বালা, সাং- তিলই, ৩নং ওয়ার্ড, থানা- ডামুড্যা, জেলা- শরীয়তপুর ডামুড্যা থানা বরাবর এই মর্মে এজাহার দাখিল করেন যে, তার ছেলে খোকন চন্দ্র দাস (৪৫) পেশায় একজন পল্লি চিকিৎসক এর পাশাপাশি ডামুড্যা থানাধীন কেউরভাঙ্গায় ওষুধের ফার্মেসী ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ/ রকেট) এর ব্যবসা করতেন। গত ৩১/১২/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় তার ছেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ব্যবসার নগদ টাকা মোট ৬,০০,০০০/- (ছয় লক্ষ) একটি ব্যাগের মধ্যে নিয়ে কেউরভাঙ্গা থেকে সিএনজি যোগে নিজ বাড়ীর কাছাকাছি তিলই বেপারীবাড়ী মসজিদের সামনে এসে সিএনজি থেকে নেমে পায়ে হেটে বাড়ীতে সামনে পৌছালে সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামী ১। সোহাগ খান (২৮), পিতা-বাবুল খান, সাং- তিলই, ৩নং ওয়ার্ড, ২। রাব্বি মোল্লা (২৪), পিতা- শামসুদ্দিন মোল্লা, সাং- আতলাকুড়ি, ওয়ার্ড নং-২. বর্তমানে-মডেরহাট এতিমখানা গুচ্ছগ্রাম (আদর্শগ্রাম), ও ৩। পলাশ (২৫), পিতা- সহিদ সরদার, বর্তমান সাং-মডেরহাট এতিম খানা গুচ্ছগ্রাম (আদর্শগ্রাম), সর্ব থানা- ডামুড্যা, জেলা-শরীয়তপুর, ধারালো চাকুসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ভিকটিমের পথ আটকিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং এলোপাথারী ছুরিকাঘাত ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এক পর্যায়ে ভিকটিম আসামীদের চিনে ফেলায় আসামীরা হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভিকটিম তার জীবন রক্ষার্থে পাশের ডোবার পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন বের হয়ে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়। আসামীদের ছুরির আঘাতে ভিকটিমের মাথার বাম পাশে, বুকের ডানপাশে নিচে ও পেটে গুরুতর জখম হয়। পেট্রোল এর আগুনে হাত, মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ঝলসে যায়। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক বিবেচনায় ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করেন। উল্লেখিত ঘটনায় শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানায় দস্যুতা ও হত্যা চেষ্টা মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে গত ০৩/০১/২০২৬ খ্রিঃ সকাল ০৮.০০ ঘটিকায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নৃশংস এ হত্যাকান্ডের সংবাদ ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে র্যাব-৮, বরিশাল মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষে ছায়া তদন্ত শুরু করে । আসামিরা পালানোর সব ধরনের চেষ্টা করা সত্বেও তাদের পালানোর রুট এবং সম্ভাব্য সকল কৌশল নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান সনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮, বরিশাল ও র্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ একটি যৌথ আভিযানিক দল ০৪/০১/২০২৬ তারিখ আনুমানিক রাত্র ০১.০০ ঘটিকায় পূর্ব পৈলনপুর,বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ এলাকা হতে উক্ত মামলার ঘটনায় জড়িত আসামী ১। সোহাগ, ২। পলাশ, ৩। রাব্বিদের‘কে গ্রেফতার করে এবং আসামীর কাছ থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীগন উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।র্যাব সবসময় সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় এবং সন্ত্রাসীদের দমনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। র্যাব-৮ এর এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।