গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :ফয়জুল ইসলাম লিমন।
গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলের ১৮ জন নেতা। শনিবার (১ আগস্ট) পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতি ইউনিয়নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের ১৬ জন নেতা একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই দিনে গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত পৃথক আরেক সংবাদ সম্মেলনে আরও দুই নেতা দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মুকসুদপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পশারগাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান মীর। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী নন। দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর তারা স্বেচ্ছায় এবং সজ্ঞানে দলীয় সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তারা দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জনকল্যাণমূলক, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহমান মীর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি, প্রলোভন কিংবা বাহ্যিক প্রভাবের কারণে নেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিবেচনা, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত এবং নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানের আলোকে গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. ইকরামুজ্জামান মীনা এবং উলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মোল্লা তাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, ব্যক্তিগত কারণেই তারা সংগঠনের সঙ্গে আর সম্পৃক্ত থাকতে চান না। সে কারণে দলীয় সব ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বা সহযোগিতা করবেন না বলেও তারা ঘোষণা দেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সদস্য এবং কৃষক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতাও।
একযোগে এত সংখ্যক নেতার পদত্যাগের ঘোষণাকে গোপালগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক নেতার একসঙ্গে পদত্যাগ ভবিষ্যতে এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিষয়টির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।