কয়রা প্রতিনিধি : খুলনার কয়রায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ‘কাপভার্ট’ (ঈঁঢ়াবৎঃ) মডেল। মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের মাধ্যমে নারীর স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সামাজিক ক্ষমতায়নকে একীভূত করার এই উদ্ভাবনী উদ্যোগটি পাইলট পর্যায়ে দারুণ সাফল্য লাভ করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ক্যাম্পেইন ব্যবস্থাপক ডা. সাদিয়া হাসান বলেন, মেনস্ট্রুয়াল কাপ যেমন স্বাস্থ্যসম্মত, তেমনি পরিবেশবান্ধব। কাপভার্ট মডেলটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে নারী-স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সমাজ একসাথে এগিয়ে যেতে পারে।” এই উদ্যোগটি কেবল একটি পিরিয়ড সলিউশন নয়, এটি উপকূলীয় বাংলাদেশের জন্য একটি ‘ক্লাইমেট-স্মার্ট হেলথ ইনোভেশন’ যা নারীর স্বাস্থ্য অধিকার, পরিবেশ সচেতনতা এবং সমাজে নারীর ক্ষমতায়নকে একত্রে সংযুক্ত করছে।এরাব ইধহমষধফবংয ঋড়ঁহফধঃরড়হ-এর খুলনা আঞ্চলিক প্রধান আল-আমিন ফরহাদ উল্লেখ করেন, উপকূলের নারীরা প্রতিনিয়ত যে প্রতিকূলতায় মাসিক সামলান, তা কল্পনারও বাইরে। কাপভার্ট তাঁদের জন্য শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা নয় এটি মর্যাদার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার একটি উদ্যোগ।প্রথম দিকের ব্যবহারকারী এবং স্থানীয় তরুণ অধিকারকর্মী সুমাইয়া আক্তার তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, “প্রথমে ভয় লেগেছিল। এখন মনে হয়, পিরিয়ড মানেই অস্বস্তি নয়। আমি যখন পারি, অন্যরাও পারবে, এই বিশ্বাসটাই সবচেয়ে জরুরি।পাইলট পর্যায়ের মধ্য দিয়ে ১০৫ জন উপকূলীয় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ নারীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই মডেল এরই মধ্যে দেখিয়েছে যে, একটি মেনস্ট্রুয়াল কাপ হতে পারে স্বাস্থ্য-সচেতন, জলবায়ু-সহিষ্ণু ও মর্যাদাসম্পন্ন জীবনের চাবিকাঠি। কাপভার্ট’ সেই ভবিষ্যতের রাস্তা দেখাচ্ছে, যেখানে স্বাস্থ্য ও সম্মান পাশাপাশি চলতে পারে এবং জলবায়ু প্রতিকূলতাও নারীর সম্ভাবনাকে থামাতে পারে না।