স.ম ইকবাল বাহার চৌধুরী, কক্সবাজার:
কক্সবাজার জেলাবাসী ও ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের জন্য জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার এর পক্ষ থেকে ইংরেজী নববর্ষের উপহার হিসাবে নিয়ে আসলো ‘ভ্রমণিকা’ নামক একটি যুগোপযোগী এ্যপ্স।
জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার এর উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় পর্যটকদের ‘Personal Travel Guide’ হিসেবে তৈরী হয়েছে ‘Vromonika’ এ্যাপ। পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য রয়েছে ‘ভ্রমণিকা’ এ্যাপে, একেবারে হাতের মুঠোয় একজন গাইডের ভুমিকায় আসছে এই এ্যাপ। এতে যা থাকছে আবাসনঃসমুদ্রনগরী ভ্রমনের পরিকল্পনায় প্রথমেই প্রয়োজন আবাসন। কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এর তথ্য এই এপ এ সন্নিবেশিত আছে। একজন পর্যটক কক্সবাজার এর যে স্পট বা যে সৈকতের কাছাকাছি থাকতে চান, সে অনুযায়ী সহজেই হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট খুজে নিতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে সকল হোটেল-মোটেল এর সকল তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে। পরিবহনঃ
কক্সবাজার ভ্রমনের প্রয়োজনীয় যাতায়াতের জন্য বাস, ট্রেন, বিমান ও সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের টিকেটসহ সকল তথ্য এই এ্যাপে পাওয়া যাবে। এছাড়া, কক্সবাজার ভ্রমনে এসে পর্যটকগণ কোন কোন স্পটে যেতে পারেন, কীভাবে যেতে পারেন, কখন যেতে পারেন, সেখানে কী কী দেখার আছে, কী ধরনের রেস্টুরেন্ট আছে, কী কী রাইড বা একটিভিটি আছে এসব তথ্য পাবেন এই একটি এ্যাপেই। প্রতিটি স্পটের দুরত্ব, গুগল ম্যাপ ডিরেকশান ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা নির্দেশনাও দেয়া আছে পর্যটকদের জন্য।
*নিরাপত্তাঃ*
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিদিনের জোয়ার-ভাটার সময় ও আবহাওয়ার পূর্ভাবাস তাৎক্ষণিকভাবে জানার ব্যবস্থা আছে এই এপে। পর্যটকদের সচেতনতার জন্য সৈকতের বিপদজনক পয়েন্টের তথ্য দেয়া আছে এখানে। এছাড়া যেকোন জরুরী মুহুর্তে যোগাযোগের জন্য জেলা প্রশাসনের পর্যটন ম্যাজিস্ট্রেট, টুরিষ্ট পুলিশ, ডাক্তার ও বীচ ভলান্টিয়ারদের প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর দেয়া আছে এই এ্যাপে। পাশাপাশি লাইফগার্ড সার্ভিস ও এম্বুলেন্স এর ফোন নম্বরও পাওয়া যাচ্ছে সহজেই। এমনকি এ্যাপ থেকে সরাসরি কল করার ব্যবস্থাও আছে।
*সেবা সংশ্লিষ্ট তথ্যঃ*
সৈকত ভ্রমনকালে ঘোড়ায় চড়া, বীচ বাইক রাইড, জেটস্কি রাইড, লকার সার্ভিস, ফটোগ্রাফীসহ যেকোন সেবা কোথায় কখন পাওয়া যাবে সেসব বিস্তারিত তথ্য আছে এই এ্যাপে।
গুগল প্লে স্টোরে ‘Vromonika’ নামে এপটি পাওয়া যাবে । এন্ড্রয়েড মোবাইলে ডাউনলোড করে সহজেই ব্যবহার করা যাচ্ছে এর প্রথম সংস্করন। শীঘ্রই এপটির পূর্নাংগ ভার্সন পাওয়া যাবে বলে ও জানান জেলা প্রশাসন থেকে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোঃ নিজাম উদ্দিন বলেন, মুলত কক্সবাজার হচ্ছে বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ দেশী বিদেশী পর্যটক আসে। এই এ্যপ্সটি একজন গাইড হিসাবে পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমনে সকল প্রকার সুবিধা গ্রহনে অনেক ভুমিকা রাখবে বলে আশা করি।
এ্যপ্স বিষয়ে জেলা প্রশাসক কক্সবাজার মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, “জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ভ্রমণিকা সম্মানিত পর্যটক এবং জেলাবাসীর জন্য নতুন বছরের উপহার হিসেবে তৈরী করেছি । ভ্রমণিকা তৈরীর প্রেরণা দিয়েছেন সম্মানিত কক্সবাজার জেলাবাসী। নতুন বছরে তাদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।” এছাড়া কক্সবাজারকে পর্যটকদের জন্য আরোও বেশী সর্বাধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে আনন্দময় ভ্রমন উপযোগী করে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।