শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
চৌহালীতে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মাদক কারবারি চাঁদাবাজের কব্জায় গঙ্গানন্দপুর ইউপির আটুলিয়া গ্রাম জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও নদী রক্ষা আদালত সুযোগে ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম কমানো হবে: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দীর্ঘদিন পলাতক থেকেও শেষ রক্ষা হলো না ১৪ (চৌদ্দ) বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী জহিরুলের, অবশেষে র‍্যাব-৮ কর্তৃক গ্রেফতার পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার চাঞ্চল্যকর ইউসুফ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত আরাফাত র‍্যাব-৮ কর্তৃক গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আব্দুর রহমান ভূঁইয়া, জাহেরা খাতুন ও হাসিনা বেগমের মাগফিরাত কামনায় সেলাই মেশিন বিতরন। মধ্যনগরে সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা চাটখিলে ৩ সন্তান রেখে মসজিদের মুয়াজ্জিনের সাথে কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী উধাও, থানায় অভিযোগ উদ্ভাবকদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের উদ্যোগ নেওয়া হবে: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

মাদক কারবারি চাঁদাবাজের কব্জায় গঙ্গানন্দপুর ইউপির আটুলিয়া গ্রাম

বিশেষ প্রতিবেদক : যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম আটুলিয়া। এই গ্রামটি বর্তমানে মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজের কব্জায়। সেখানে সাধারণ মানুষ বর্তমানে ঐ অপকর্মকারীদের কাছে জীম্মি। এই চক্রটির সদস্যরা শুক্রবার ৩জুলাই সকালে গ্রামের নিরীহ চাষী জারাফাতেরর লক্ষ টাকা মূল্যের গরু জোর পূর্বক ধরে নিয়ে গেছে। আব্দুর রহমান নুনুর ছেলে খবিরের নেতৃত্বে লতাসহ ২০/২২ জন গরুটি নিয়ে যায়।
চাঁদাবাজদের অত্যাচারে বর্তমানে আনিছ নামে এক যুবক প্রাণ ভয়ে গ্রাম ছাড়া রয়েছে। আগেই চাঁদাবাজদের ভয়ে গ্রামছাড়া হয়েছেন মোমিনুর, আবুল খায়ের, মিন্টুসহ অন্তত ১০ জন।
আটলিয়া গ্রামের ওলি মোড়ের ‘লতা’সহ আরো কয়েকজন সন্ত্রাসি খবিরের সাথে মিশে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। গ্রামের মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়লেও এসব মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা ও অপকর্মে শান্তিতে থাকতে পারছে না।
আটুলিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান (নুনু)র ছেলে খবির এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ। এলাকায় অনেক নিরীহ মানুষের নিকট হতে চাঁদা নিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার পর আটুলিয়া গ্রামের মহর আলীর ছেলে মোঃ জারাফাত হোসেনকে মেরে আহত করেছে। বাহিরের এলাকা হতে সন্ত্রাসী নিয়ে গ্রামে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। জারাফাতের নিকট চাঁদা দাবি করলে সে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, এজন্য জারাফাতকে মেরে আহত করে। তারা দিনে রাতে দেশীয় অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এরা ব্যাপক মহড়া দিয়ে জনমনে ভীতি তৈরি করছে। এরা মানুষের মনে পরিকল্পিত আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। গ্রামের অনেককেই এই সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে আহত করেছে। কিছু দিন আগে এরা নিরীহ বিএনপি কর্মী মৃত কওছারের ছেলে মিলন ও আশরাফুলকে, আবু খায়েরের ছেলে রাকিবকে, মালেকের ছেলে রাজু ও আজিজুরকে মেরে আহত করে। এছাড়া আরো অনেককে ইতোপূর্বে মেরে আহত করেছে এই চক্রের সদস্যরা। ফলে ভয়ে কেউ মামলা করতে সাহস পায়না। এদের নামে থানায় মাদকসহ বিভিন্ন মামলা থাকতে পারে। এদের কে এখনি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এলাকায় সব সময় অশান্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করবে। মাদকের ছোবলে গ্রামের উঠতি ছেলেরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাদক কারবারি আটক বা অবৈধ মাদক কারবার বন্ধে পুলিশি অভিযান চলে কদাচিৎ। এমনকি পুলিশ সাধারণ গ্রামবাসীর অভিযোগ নিতেও চায় না।
নিরীহ গ্রামবাসী জানান, আটুলিয়া গ্রামটি বর্তমানে বসবাসের যেন সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এখানে মাদক কারবারি বেপরোয়া। নুনুর তিন ছেলে আনারুল, কবিরুল ও খবিরুল এবং আম্বি মাদক চাঁদাবাজ চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে। এরা প্রতিদিন বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে গ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে অথচ কদিন আগেও ছিল আটুলিয়া পরম শান্তির গ্রাম। এখানে কোন রাজনৈতিক ভেদাভেদ ছিল না। মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইথিহাসের অংশের গ্রামটি আজ মাদক কারবারি চাঁদাবাজের জিম্মায়। না আছে আইনের শাসন না কোন মানবতা। ভয়াল গ্রাম। গ্রাম ছাড়তে শুরু করেছে সাধারণ অনেকেই।



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ