মোহাম্মদ রুস্তম আলী নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর এলাকার আনন্দনগর মহল্লার চাঁচকৈড় ওভারব্রিজ থেকে খুবজীপুর অভিমুখে পৌরসীমা পর্যন্ত এবং চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া দুখা ফকিরের মোড় থেকে তাড়াশিয়াপাড়া পৌরসীমা পর্যন্ত নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট (RUTDP) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭১ টাকা ব্যয়ে দুটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দিয়েছে বলে
জানা গেছে। সূত্রে জানা যায়,টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ পায় সিনথিয়া-আলামিন-আনিসুর(জয়েন্ট ভেঞ্চার) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সড়কে খোয়ার স্তর বিছিয়ে পানি দিয়ে রোলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে।এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ,কাজে নিম্নমানের ইট,বালি ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি,দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আধুনিক ও টেকসইভাবে নির্মাণের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও প্রথমদিকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে পৌর কর্তৃপক্ষ নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়। তদন্তের স্বার্থে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠা উপকরণ অপসারণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা সংবাদ কর্মীদের জানায়,কাজে কোন ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী খোয়ার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ বালি ও ছোট আকারের খোয়া মিশিয়ে পানি দিয়ে বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে।নতুন পদ্ধতি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
গুরুদাসপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান সংবাদ কর্মীদের জানায়,স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্মাণকাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না,তা সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা উদঘাটন এবং জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।