ইবি প্রতিনিধি : চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স সেল (ISAC)। বেলা ১১ টায় (৫ সেপ্টেম্বর) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠান পরিচালন করেন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স সেল (ISAC) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
আহ্বায়ক ও পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।উক্ত প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলনে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: এমতাজ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, রেজিষ্ট্রেশন অধ্যাপক ড. মো: আতিকুর রহমান, এবং বিশেষ বক্তা হিসেবে ছিলেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ইয়ান হুই ও কনফিয়াস প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক আকিব ইরফান।
অনুষ্ঠানে চীনা পরিচালক ইয়ান হুই তুলে ধরেন, চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো,
চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি, শিক্ষা উন্নয়নে চীনের প্রধান অভিজ্ঞতা,ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা।
তার বক্তব্য আরো উল্লেখ করেন
চীনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূলত ৪টি প্রধান স্তর ও ২টি বিশেষ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা (কিন্ডারগার্টেন): ৩ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য। ২০২৪ সালে এ স্তরে ভর্তির হার ছিল ৯২%।বাধ্যতামূলক শিক্ষা (৯ বছর): ৬ বছরের প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৩ বছরের নিম্ন-মাধ্যমিক শিক্ষা। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক। (উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা ৫ বছরের)।উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা (৩ বছর): সাধারণ মাধ্যমিক শিক্ষা এবং কারিগরি/ভোকেশনাল শিক্ষা। (সম্প্রতি গত আগস্টে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিগরি শিক্ষা প্রসারে চীনের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করেছে)।
উচ্চশিক্ষা: স্নাতক, উচ্চতর কারিগরি/কলেজ শিক্ষা এবং স্নাতকোত্তর/পিএইচডি।বিশেষ শিক্ষা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোরদের জন্য। ২০২৪ সালে চীনে ২,৩৯৬টি বিশেষায়িত স্কুল পরিচালিত হয়েছে।ধারাবাহিক শিক্ষা (Adult/Continuing Education): আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষে দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনব্যাপী শিক্ষার অংশ।শিক্ষা অর্থায়ন ও সরকারি নীতি চীন সরকার শিক্ষা বাজেটে “১টি কম নয়, ২টি কেবল বৃদ্ধি পাবে” নীতি অনুসরণ করে: ১টি কম নয়: শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় ব্যয় জাতীয় জিডিপির (GDP) কমপক্ষে ৪% হতে হবে (এর কম হওয়া যাবে না)। ২টি কেবল বৃদ্ধি পাবে: জাতীয় শিক্ষা বাজেট এবং শিক্ষার্থী-প্রতি সরকারি বরাদ্দ প্রতি বছর বৃদ্ধি করতে হবে। চীনের উচ্চশিক্ষা ও প্রধান উদ্যোগসমূহ উচ্চশিক্ষার সার্বিক চিত্র (২০২৫): চীনে ৩,১৬৭টির বেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে ৪ কোটি ৮০ লক্ষের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার ৬১.৩% (বাংলাদেশে যা ২০%-এর কাছাকাছি)।
এছাড়াও আরো বলেন, বিশ্ব র্যাংকিং (QS World University Rankings 2026): বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চীনের ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে (যেমন: পেকিং বিশ্ববিদ্যালয় ১৪তম, সিংহুয়া ১৭তম, ফুদান ৩০তম)। তালিকায় মোট ৭২টি চীনা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
গাওকাও (Gaokao – জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা): এটি চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। ২০২৫ সালে ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় মানোন্নয়ন প্রকল্পসমূহ:
প্রজেক্ট ২১১ (Project 211): ১০০টির বেশি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন প্রকল্প।
প্রজেক্ট ৯৮৫ (Project 985): ৩৯টি অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির প্রকল্প।ডাবল ফাস্ট-ক্লাস উদ্যোগ (Double First-Class Initiative): বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় তৈরির আধুনিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
প্রধান অতিথির বক্তব্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: মতিনুর রহমান বলেন,বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি চীনের ভাষা ও প্রযুক্তি শেখা তরুণ সমাজের ক্যারিয়ারের জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা কেন্দ্র সচল করবে, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। ইবি প্রতিনিধি ফাহিম ইসলাম