মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী : মৌলভীবাজারের হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোচিং ও প্রাইভেট ব্যাচ পরিচালনা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগতদের সঙ্গে আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের ১০ জন অভিভাবক।এ বিষয়ে ১২ জুলাই ২০২৬ জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ১০ জন অভিভাবক। অভিযোগটির অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট; পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার এবং জেলা শিক্ষা অফিসার, মৌলভীবাজারের কাছেও দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগের স্মারক নং-৬১৭৩ ।লিখিত অভিযোগে নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ তৈয়ব আলী মীর ও লাইব্রেরিয়ান আফরোজা খাতুন প্রায়ই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। তৈয়ব আলী মীরের বিরুদ্ধে শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষকদের সঙ্গে উচ্চবাক্য বিনিময় এবং বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ও বহিরাগত লোকজনকে নিয়ে বিদ্যালয়ের পাশের চায়ের দোকানে বসে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা করার অভিযোগও করা হয়েছে।অভিযোগে সারওয়ার হোসেন বাদল সম্পর্কে বলা হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন দুপুরে তিনি নিজের কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট ব্যাচে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন দাগিয়ে দেন এবং তার কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।এছাড়া সুমন চন্দ একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন এবং সেখানে পড়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক নিয়মিত সময়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে উপস্থিত না হয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে কোচিং ক্লাস ও প্রাইভেট ব্যাচ পড়ানোর বিষয়ে বেশি মনোযোগী। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।শিক্ষার্থীদের দিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতির অভিযোগ
অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগে আরও গুরুতর দাবি করা হয়েছে—বর্তমানে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৈয়ব আলী মীর, আফরোজা খাতুন, মিফতাহুজ্জামান সাজু, সুমন চন্দ ও সারওয়ার হোসেন বাদল কতিপয় শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর নিচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।
এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয় কাজ করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এডহক কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও বহিরাগত লোকজন এনে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। কিছু বহিরাগত লোকজনকে নিয়ে একটি ‘ছায়া গ্রুপ’ তৈরি করা হয়েছে এবং তারা প্রায়ই বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বসে আড্ডা দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।