প্রেস বিজ্ঞপ্তি : র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যার মত নেক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটক করে আইনের আওতায় এনে সাধারণ জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে র্যাব।র্যাব-৮, সদর কোম্পানী, বরিশাল এবং র্যাব-১, সিপিসি-২, উত্তরা, ঢাকা এর সম্মিলিত একটি আভিযানিক দল অদ্য ২৩ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখ ০১.১৫ ঘটিকার সময় ঢাকা মহানগরের উত্তরখান থানাধীন মাষ্টারবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বরিশাল মহানগরের বিমানবন্দর থানার বসত ঘরে হামলা করে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ এবং কুপিয়ে লিটন শিকদার@লিটু শিকদারকে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মোঃ মিলন গাজী(৩২), পিতা- আয়নাল গাজী, সাং: পূর্ব বিল্লা বাড়ি, থানা: বিমানবন্দর, জেলা: বরিশাল’কে গ্রেফতার করে| এছাড়াও, র্যাব-৮, সদর কোম্পানী বরিশালের একটি আভিযানিক দল অদ্য ২৩ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখ ১৫.৩০ ঘটিকার সময় বরিশালের কোতয়ালী মডেল থানাধীন বান্দরোড এলাকা হতে উক্ত মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মোসাঃ ইলা(২৪), স্বামী-মোঃ মিলন গাজী, সাং: পূর্ব বিল্লা বাড়ি, থানা: বিমানবন্দর, জেলা: বরিশাল’কে গ্রেফতার করে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মোঃ মিলন গাজী(৩২) ও মোসাঃ ইলা(২৪)’সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা গত ৩১/০৭/২০২৫ ইং অনুমান ১৮৩০ ঘটিকার সময় পরস্পর যোগসাজশে রামদা, দা, চাইনিজ কুড়াল, ছুরি, লোহার রড, লাঠি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রসহ ভিকটিম মো: লিটন শিকদার@লিটু এর বসতবাড়ি বরিশাল মহানগরের বিমানবন্দর থানাধীন পূর্ব বিল্লা বাড়ি গ্রামের বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে ভিকটিম ও তার ভাই মোঃ সুমনকে ধাওয়া করে। ভিকটিমরা প্রাণ বাঁচাতে লিটু শিকদারের ঘরে প্রবেশ করলে অভিযুক্তরা ভিকটিমের ঘরের সামনে থাকা মোটরসাইকেলটি রাস্তায় নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভিকটিমের ঘর কুপিয়ে ভাংচুর করে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে ভিকটিমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে কাটা রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে। অভিযুক্তরা ভিকটিমকে টেনে হিচড়ে বাইরে পুকুরে নিয়ে পানিতে চুবিয়ে ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাতের কুনুই বিচ্ছিন্ন করে পুকুরে ফেলে রাখে। ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে বাচাতে এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে কাটা রক্তাক্ত জখম করে। অভিযুক্তরা ভিকটিমের ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, দামি আসবাবপত্রসহ ১০ লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় এবং ভিকটিমের বসত ঘরে ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস এসে ঘরের আগুন নিয়ন্ত্রণ করে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কয়েকজনকে আটক করে ও অন্যদের ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশ ভিকটিমদের উদ্ধার করে শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম লিটন শিকদারকে মৃত ঘোষণা করে। উল্লিখিত ঘটনায় ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে বরিশাল মহানগরের বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা রুজু করেন। উক্ত ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। উক্ত ঘটনাটি র্যাব-৮, বরিশালের নজরে আসলে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই প্রেক্ষিতে, র্যাব-৮, বরিশাল এবং র্যাব-১, ঢাকা এর একটি সম্মিলিত আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে উক্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মিলনকে বিএমপি’র বিমানবন্দর থানায় এবং ইলা’কে কোতয়ালী থানায় পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।