প্রেস বিজ্ঞপ্তি : র্যাব প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মাদককারবারি সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে । এরই ধারাবাহিকতায় আলোচিত খবির সরদার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন গগন (৬০) ও কামাল সরদার (৩৯) কে গাজীপুর হতে এবং একই থানায় রুজুকৃত আলোচিত আলমাছ সরদার হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ দানেশ সরদার (৫৯) কে শরীয়তপুর হতে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮। ঘটনার বিবরণঃ এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, জনৈক দানেশ সরদার (৭৫), পিতা-মৃত মোহাম্মদ ইউনুছ সরদার, সাং-ওমরদ্দি মাদবর কান্দী, থানা-জাজিরা, জেলা-শরীয়তপুর ইং-২৮-০৮-২০২৫ তারিখ অফিসার ইনচার্জ, জাজিরা থানা, শরীয়তপুর বরাবর এজাহারনামীয় ১৮ জন সহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন যে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা প্রাণঘাতী অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গত ইং-২৬-০৮-২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় বাদীর ছোট ভাই ভিকটিম খবির সরদারকে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানাধীন ওমরন্দী মাদবর কান্দী এলাকায় ভিকটিম খবির সরদারের উপর হামলা করে বুকের ডান পাশে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। ভিকটিমকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষনা করেন। বাদীর এরূপ অভিযোগের ভিত্তিতে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। অপর মামলার বাদী লিপি বেগম (৩৪), পিতা-মৃত সহন সরদার, সাং-উমর উদ্দীন মাদবর কান্দি, থানা-জাজিরা, জেলা-শরীয়তপুর ইং-০২-০৯-২০২৫ তারিখ অফিসার ইনচার্জ, জাজিরা থানা, শরীয়তপুর বরাবর এজাহারনামীয় ২৫ জন সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন যে, গত ২৬-০৮-২০২৫ তারিখ রাত্র অনুমান ০৮:৩০ ঘটিকার সময় অভিযুক্তরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেআইনী জনতাবদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রাণঘাতী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বাদীর ভাই ভিকটিম আলমাছ সরদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে জাজিরা থানাধীন উমর উদ্দিন মাদবর কান্দি এলাকায় গতিরোধ করে অভিযুক্তরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ভিকটিমের মাথায় কোপ মারলে উক্ত কোপ কপালের উপর বাম পাশে লেগে মারাত্মক হাড় কাটা রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়। অভিযুক্তরা ধারালো রামদা দিয়ে ভিকটিমের বাম কাঁধে কোপ মেরে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে। ভিকটিমের ডাক চিৎকার শুনে বাদী, সাক্ষীসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান অভিযুক্তদের দ্বারা মারপিটের শিকার হয়ে ভিকটিম পুকুরের পানির মধ্যে পড়ে গিয়েছে। অভিযুক্তরা পুকুরের পানিতে চুবিয়ে ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ পুকুর থেকে উঠিয়ে সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মাটির নিচে পুতে লাশ গুম করে। অতঃপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাজিরা থানা পুলিশ গত ইং ২৮-০৮-২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ১০ঃ৪৫ ঘটিকার সময় মাটিতে পুতে রাখা বস্তায় ভর্তি লাশ উদ্ধার করে। বাদীর এরূপ অভিযোগের ভিত্তিতে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানায় অপর একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
উক্ত ঘটনাদ্বয় ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনাদ্বয় র্যাব-৮, বরিশালের নজরে আসলে র্যাব-৮ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-৮, মাদারীপুর ক্যাম্প, র্যাব-১, উত্তরা র্যাব-১২, বগুড়া ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল ইং-০৬-০৯-২০২৫ তারিখ ২১:১০ ঘটিকার সময় জিএমপি গাজীপুর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন ভোলারটেক এলাকা হতে খবির সরদার হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন গগন (৬০), পিতা-মৃত চাঁন মিয়া সরদার, সাং-ওমরদ্দি মাদবর কান্দি ও এজাহার নামীয় ১৭ নং অভিযুক্ত কামাল সরদার (৩৯), পিতা-আছমত আলী সরদার, সাং-ঝিনু মার্কেট পালের চর, উভয় থানা-জাজিরা, জেলা-শরীয়তপুরদ্বয়কে গ্রেফতার করে।
অপর একটি অভিযানে র্যাব-৮, মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ০৬-০৯-২০২৫ তারিখ ২২:১০ ঘটিকায় শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানাধীন আলুর বাজার ফেরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমাছ সরদার হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ দানেশ সরদার (৫৯), পিতা-মৃত ইউনুছ সরদার, সাং-উমর উদ্দিন মাদবর কান্দি, থানা-জাজিরা, জেলা-শরীয়তপুরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। র্যাব-৮ এর এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।