মোঃ ফয়জুল ইসলাম( লিমন) , গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলার ঘটনায় গতকাল বুধবার আরেকটি মামলা হয়েছে। এ মামলাটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নিউটন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়াল সহ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের ৭৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৪শ জনকে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেছেন। মামলা হওয়ার বিষয়টি গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।নুতন এই মামলা নিয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ সংঘর্ষের ঘটনায় আজকে পর্যন্ত মোট ১৫ টি মামলা হলো। এই ১৫টি মামলা মোট আসামি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২শত ১২ জনে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১ হাজার ২৫২ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এই মামলার পূর্বে গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে হামলা ও ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, জেলা কারাগারে হামলা, জেলা প্রশাসকের বাসভবনে হামলা, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়ানোর অভিযোগে ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১৪টি মামলা করা হয়েছিল। গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া থানায় মামলাগুলো করা হয়েছিল।গতকালের নুতন করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৬ জুলাই এনসিপির জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কের সমাবেশ বানচাল করার উদ্দেশ্যে আসামিরা বিভিন্ন সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। সদর উপজেলার কাঠিবাজার ও এর আশপাশের এলাকায় গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট আঞ্চলিক সড়কে ওপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা, রড, ইটপাটকেল, কাঠের বাটাম, দেশি অস্ত্রশস্ত্র ও গাছ কাটার ইলেকট্রিক করাত নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করেন। তাঁরা লাঠিসোঁটা, রড, ইটপাটকেল ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ঘটনাস্থলের দোকানপাট ভাঙচুর করেন। রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গাছ কেটে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
ওই ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।১৬ জুলাই এনসিপির কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা হামলা চালান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেদিন প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। রাতেই কারফিউ জারি করা হয়। পরে কারফিউর মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। এরপর গত ২০ জুলাই রাত আটটায় কারফিউ ও ১৪৪ ধারা তুলে নিয়ে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে ঘোষণা দেয়।