মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি :শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষা গবেষণাগার ‘ব্রহ্মপুত্র’-এর মাধ্যমে সরেজমিনে কৃষকদের ফসলি জমির মাটি পরীক্ষা ও সুষম সার ব্যবহারে দিকনির্দেশনা দিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে এর আয়োজন করা হয়। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক গবেষণাগার, জামালপুরের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ২৫ জন কৃষককে মৃত্তিকা নমুনা সংগ্রহ পদ্ধতি ও সুষম সার ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।প্রশিক্ষণে কৃষকদের হাতে-কলমে দেখানো হয় কীভাবে সঠিকভাবে মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে হয় এবং জমির উর্বরতা অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।এ কর্মসূচির আওতায় ২৫ জন কৃষকের ফসলি জমির মাটি সংগ্রহ করে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আগামী ৬ মে ২০২৬ তারিখে তাদের মাঝে সার-সুপারিশ কার্ড বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ পেয়ে কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এটি তাদের চাষাবাদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন।জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট দেশের ৬৪টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষা গবেষণাগারের মাধ্যমে মাটির নমুনা সংগ্রহ ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে কৃষকদের মাঝে সার-সুপারিশ কার্ড বিতরণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইগাতীতে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক গবেষণাগার জামালপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. রাফেজা বেগম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন জানান, কৃষকরা চাইলে তাদের জমির মাটি পরীক্ষার জন্য জামালপুর মৃত্তিকা অফিসে কিংবা উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে সহজেই এই সেবা নিতে পারবেন। এতে জমিতে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ নিশ্চিত হবে, যেমন অপ্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ কমবে, তেমনি কমবে উৎপাদন খরচও।উল্লেখ্য, ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষা গবেষণাগার ‘ব্রহ্মপুত্র’-এর মাধ্যমে রবি ও খরিপ মৌসুমে মাত্র ২৫ টাকার বিনিময়ে কৃষকদের জমির মাটি সরেজমিনে পরীক্ষা করা হচ্ছে।এদিকে স্থানীয় কৃষকরা শেরপুর জেলায় একটি স্থায়ী মৃত্তিকা গবেষণাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।