গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ; নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার পুরুলিয়া দারুল উলুম দাখিল ও এবতেদায়ী মাদ্রাসার নামে দানকৃত জমি দখলের চেষ্টা করছেন নিজেই জমিদাতা এমন অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দান করার ৩৩ বছর পর এসে দাতা ইব্রাহীম আলী সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জমি জবরদখলের প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন মাদ্রাসা কমিটি ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় জমি রক্ষার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পুরুলিয়া বাজারে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক মানুষ। বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি সদস্য কাচন আলী, মহিদুল ইসলামসহ অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার দাখিল ও এবতেদায়ী শাখা দীর্ঘদিন ধরে সুষ্ঠুভাবে চলছে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদ্রাসার মাঠটি জানাযার স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এসব উপেক্ষা করে মাদ্রাসার নামে দান করা জমি অন্যায়ভাবে খারিজ করে দখলের চেষ্টা করছেন দাতা ইব্রাহীম আলী। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মাদ্রাসা কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।
মাদ্রাসা সূত্র জানায়, ২০০১ সালে পুরুলিয়ার ইব্রাহীম আলী সরকার শহীদ জিয়া কলেজের নামে ৫৫ শতক জমি দান করেন। একই সঙ্গে নুর আলী ১৯ শতক ও গোলাপজান ৩০ শতক জমি দান করেন। তবে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় পরবর্তীতে জমিটি পুরুলিয়া মডেল কলেজের নামে দলিল করা হয়। সেটিও বন্ধ হয়ে গেলে ২০০৬ সালে একই জমি দান করা হয় পুরুলিয়া দারুল উলুম দাখিল ও এবতেদায়ী মাদ্রাসার নামে। বর্তমানে ওই জমিই দখলের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাদের।অভিযোগের বিষয়ে নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ইব্রাহীম আলী বলেন, “প্রতিষ্ঠান টিকে থাকলে তবেই জমি মাদ্রাসার নামে থাকবে—এমন শর্তে জমি দান করি। কিন্তু দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, জমি পতিত পড়ে আছে। দলিলেই উল্লেখ আছে—প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত না হলে দাতা বা ওয়ারিশরা জমি ফেরত নিতে পারবেন। অন্য দুই দাতা তাদের জমি ভোগদখল করলেও আমার ক্ষেত্রে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে।”
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে নামজারি করতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন প্রয়োজন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “দানসূত্রে রেজিস্ট্রিকৃত জমির নামজারির সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”