মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বাগেরহাটের মোল্লারহাট থানার মানবপাচার দলের মূল হোতা আল আমিনকে র‌্যাব-৮ কর্তৃক গ্রেফতার। পীরগঞ্জে আগুন ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, ২০ পরিবার পেল ঢেউটিন ও নগদ অর্থ চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলার পলাতক ডাকাত দলের নেতা লিটনকে পটুয়াখালী থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব -৮। চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজনে মহান মে দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত ঝিনাইগাতীতে ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা ল্যাব ‘ব্রহ্মপুত্র’: মাটি পরীক্ষায় মিলছে সুষম সার ব্যবহারের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রামে ৭০ লাখ টাকার বিদেশি মদ জব্দ মহানন্দা সেতু টোলমুক্ত করার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন প্রেমঘটিত বিরোধে ঝিনাইগাতীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: আহত ৩, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ২ চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা: জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন মেয়র শাহাদাত

রেলওয়ে হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ’চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত রেলওয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতাল—পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অধিন লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের হাজারো কর্মকর্তা–কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জন্য স্থাপিত এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি এখন কার্যত নিজেই ‘অসুস্থ’। হাসপাতালটিতে নেই একটিও চিকিৎসক; নেই কার্যকর ল্যাব, নেই রোগী—যেন এক নীরব পরিত্যক্ত স্থাপনা। সব মিলিয়ে বহু বছরের চিকিৎসা সংকটে রেলওয়ে পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। রেলওয়ে হাসপাতাল চিকিৎসক শুন্য হয়ে একপ্রকার অচল হয়ে পড়েছে। স্টাফরা কর্মহীন, যন্ত্রপাতি অচল, রোগীহীন হাসপাতালটি এখন রেলওয়ে পরিবারগুলোর জন্য ‘অসহায়ত্বের প্রতীক’ হয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. পার্থ সারথী বনিককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতালে বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার (ডিএমও) হিসেবে।
কিন্তু তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন আসেন, তাও কাগজে-কলমে স্বাক্ষর করতে করতে দিন শেষ হয়ে যায়। রোগী দেখার সুযোগই হয় না।
হাসপাতালে ইনডোর বিভাগে কর্মরত আছেন ৮ জন, আউটডোরে ৬ জন, কিন্তু কার্যত কেউ কোনো কাজ পান না। প্রতিদিন এসে অলস সময় কাটিয়ে আবার বাড়ি ফিরতে হয়।গেল পাঁচ বছর ধরে ইনডোরে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। এক বছর ধরে আউটডোর বিভাগ পুরোপুরি বন্ধ। হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরীক্ষার যন্ত্রপাতি থাকলেও দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সবই অচল হয়ে গেছে।ল্যাব অ্যাটেন্ডেন্ট পল্লব ভট্টাচার্য, যিনি ১৪ বছর ধরে হাসপাতালটিতে চাকরি করছেন, বলেন—“প্রথম দুই-তিন বছর ল্যাব চলত। তারপর রোগী না থাকায় ল্যাব বন্ধ হয়ে যায়।এখন হাসপাতালে এসে শুধু সময় পার করি। চিকিৎসকইহাস পাতালের প্রাণ—চিকিৎসক থাকলে রোগী আসত, ল্যাবও চালু থাকত,তার ভাষায়, “ব্যবহার না থাকায় ল্যাবের সব যন্ত্রপাতিই এখন বিকল।নার্স ইনচার্জ মহসিনা বেগম বলেন—“ইনডোরে চার চিকিৎসকের পদ থাকলেও একজনও নেই। তাই পাঁচ বছর ধরে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।এক বছর আগে আউটডোরে একজন চিকিৎসক ছিলেন, তাই রোগী আসত। এখন আউটডোরও বন্ধ। আমরা সারাদিন অলস বসে থাকি—এটাই আমাদের কষ্ট।পরিচ্ছন্নতা কর্মী রুমি খাতুন জানান—“রোগী নেই বলে নোংরাও কম হয়, কিন্তু হাজিরা দিতে প্রতিদিনই হাসপাতালে আসতে হয়। পাঁচ বছর ধরে হাসপাতালের অবস্থা একই রকম।লালমনিরহাট স্টেশনে কর্মরত রেলওয়ে কর্মচারী সুরত আলী বলেন—“৩০ বছর আগে লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতাল খুবই জমজমাট ছিল। সব ধরনের চিকিৎসা মিলত। ধীরে ধীরে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এখানে কোনো সেবাই নেই।তিনি বলেন—“চিকিৎসক না থাকায় আমাদের সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে হয়। অথচ আমাদের জন্য থাকা হাসপাতালটাই এখন অসুস্থ।আরেক কর্মচারী রেজাউল ইসলাম বলেন—“হাসপাতালে স্টাফ আছে, বেড আছে, যন্ত্রপাতিও আছে—কিন্তু নেই চিকিৎসক। তাই হাসপাতাল পুরোপুরি অচল। “আগে হাসপাতাল থেকে ওষুধ পাওয়া যেত। এখন চিকিৎসক না থাকায় সেটাও বন্ধ।
ডা. পার্থ সারথী বনিক বলেন—“এই হাসপাতালে ছয়টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে, কিন্তু কেউ নেই। আমি শুধু অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করি।
’সপ্তাহে একদিন এসে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে করতে সময় শেষ হয়ে যায়, তাই রোগী দেখার সুযোগ হয় না।তিনি জানান, বিষয়টি বহুবার রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে। আশা করছি এই হাসপাতালে দ্রুতই মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিবেন কর্তৃপক্ষ।



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ