মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি এবং পরিদর্শনে কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও বোম স্কোয়াড কুকুর। আদমদীঘি থানার পুলিশ কনেষ্টবলের অবসর জনিত রাজকীয় দিয়ায় সংবর্ধনা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩নং ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন চেয়ারম্যান পদ পার্থী জুপিটার তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বাঁশখালীতে বন্যায় ১১ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত, নতুন ঘর পাচ্ছে ১০০ পরিবার ঝিনাইগাতীতে বনের ভেতর ১৬ লাখ টাকার ভারতীয় মদ জব্দ তালায় বজ্রপাতে ব্যাবসায়ী নিহত শুকতাইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান রানা মোল্লার গাড়িবহর নিয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সৌদিআরবে ওমরাহ হজ্জে নতুন নিয়মে চারদেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর❞ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গোপালগঞ্জের সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ রিক্সা চালক ঢামেকে মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

মোঃফয়জুল ইসলাম (লিমন) গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃগোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)’র সমাবেশ কে কেন্দ্র হামলা, ভাংচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সহিংসতার মধ্যে গুলিবিদ্ধ রমজান মুন্সী নামে আরও একজন মারা গেছেন। গত ১৬ জুলাই আহত অবস্থায় তাঁকে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিকশাচালক রমজান। তিনি গোপালগঞ্জ পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার মৃত আকবর মুন্সীর ছেলে।এ নিয়ে গোপালগঞ্জের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন মারা গেলেন। ঘটনার দিন মারা যান–সোহেল মোল্লা, দীপ্ত সাহা, রমজান আলী ও ইমন তালুকদার। রমজান মুন্সীর মৃত্যুর বিষয়টি ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক ও রমজান মুন্সীর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেন। ইনচার্জ মোবাইল ফোনে গোপালগঞ্জের মানবজমিন প্রতিনিধি আরো জানান, গোপালগঞ্জের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সুমন বিশ্বাস (৩০) ও আব্বাস আলী (৩২) নামের আরও দুজন ঢামেকে চিকিৎসাধীন আছেন ।রমজান মুন্সীর ভাই ইমরান মুন্সী বলেন, আমার ভাই রিকশা চালাতো। সহিংসতার দিন দুপুর আড়াইটার দিকে রিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় দূর থেকে করা করা দুটি গুলি তাঁর শরীরে লাগে। পরে বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। শত চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো গেল না।
অপরদিকে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের পরিস্থিতি এখনো অনেকটাই থমথমে। আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দফার কারফিউ চলছে চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার আতংকে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে কাঁচা বাজার ও ওষুধের দোকান এবং ফলের দোকান খোলা রয়েছে।
গোপালগঞ্জের সার্বিক বিষয় নিয়ে গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্বচ্ছতা সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিং করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। ব্রিফিংয়ে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি (উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক) রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, ‘হামলাকারীদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবেতিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত ২৫ জনের অধিক হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও মোট ৪জন নিহত হয়েছেন।’ তাদের কারোরই সুরতহাল রিপোর্ট ও পোস্টমর্টেম হয়নি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটি আপনারাও জানেন, আমরাও জানি এগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার গোপালগঞ্জে এনসিপি’র ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’কে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের পর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৪ জন কর্মী সমর্থক নিহত হন। পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক আহত হন। এ ঘটনার পর প্রথমে স্থানীয় প্রশাসন বিকালে ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে পরিস্থিতি আরো অবনতি হলে এদিন রাত ৮ টা থেকে কারফিউ জারি করা করে। ওই কারফিউ গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত মোট ২২ ঘণ্টা বলবৎ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ পর্যন্ত মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা করা হয়নি।



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ