সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আদমদীঘি থানার পুলিশ কনেষ্টবলের অবসর জনিত রাজকীয় দিয়ায় সংবর্ধনা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩নং ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন চেয়ারম্যান পদ পার্থী জুপিটার তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বাঁশখালীতে বন্যায় ১১ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত, নতুন ঘর পাচ্ছে ১০০ পরিবার ঝিনাইগাতীতে বনের ভেতর ১৬ লাখ টাকার ভারতীয় মদ জব্দ তালায় বজ্রপাতে ব্যাবসায়ী নিহত শুকতাইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান রানা মোল্লার গাড়িবহর নিয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সৌদিআরবে ওমরাহ হজ্জে নতুন নিয়মে চারদেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর❞ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ নেতৃত্বে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে এনআইডি

স.ম ইকবাল বাহার চৌধুরী (কক্সবাজার) :বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরনার্থী শিবির এই কক্সবাজারেই। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা এই শিবিরে। ২০১৭ সালে মায়নামারে জাতীগত দাঙ্গার কারনে যান্তা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা। এসময় প্রায় ২ লাখের ও বেশী রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে কক্সবাজার সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা দেশের জনপ্রতিনিধিদের টাকার বিনিময়ে কিছু দালালের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে সহযোগিতা করে। এজন্য তারা হতদরিদ্র কিছু মানুষকে জিম্মি করে মা বাবা সাজিয়ে রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দেন এনআইডি কার্ড। এমনই একটি অভিযোগ কক্সবাজার সদর উপজেলা ভারুয়াখালীর ননা মিয়ার পাড়ার মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে সুলতান আহমদ (বর্তমানে মৃত) তার পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন কক্সবাজার শহরের ডায়াবেটিস পয়েন্টের পিছনে উচ্ছেদকৃত বন্দর পাড়া প্র: কাঙ্গালিপাড়া ও গরু পাড়া বলে পরিচিত ছিল। ঐ পাড়ায় পাশাপাশি বসবাস ছিল ভারুয়াখালী বুইজ্জা নামের নুরুল কবিরের পরিবারের। সুলতান আহমদ ও তার স্ত্রী বেগম জানকে জিম্মি করে তাদের আইডি কার্ড নিয়ে একই রোহিঙ্গা পরিবারের ৭ জন এনআইডি কার্ড করেন একই এলাকার ইয়াবা কুইন ও প্রতাপশালী রোজিনা নামক এক মহিলা। কক্সবাজার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের সহযোগিতায় এই সাত জনের এনআইডি কার্ড করা হয়েছে বলে জানান অসহায় বেগম জান। তাছাড়াও এই কাউন্সিলর মিজান শতাধিক রোহিঙ্গাকে ভোটার করেছে বলে জানা যায়।
এদের মধ্যে-
১। নাম- রিয়াজ আহাম্মদ ইলিয়াছ, পিতা: সুলতান আহমদ, মাতা:- বেগম জান, এনআইডি নং ৪২০৩৫৫৩৪৯২. জন্ম তারিখ: ১৫/০৬/১৯৮৯ইং, জন্ম নিবন্ধন নং- ১৯৮৯২২২৬৬০২১২৫০০৬.
ঠিকানা: সুলতানের বাড়ী, উত্তর নুনিয়ার ছড়া, ২নং ওয়ার্ড কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার। বসবাস ১নং ওয়ার্ডে, ভোটার ২নং ওয়ার্ডে।
২। নাম: মোঃ জোবাইর, পিতা: সুলতান আহমদ,
মাতা: বেগম জান, এনআইডি নং: ১৯৪০৭৭৩০২৯. জন্ম তারিখ: ১৫/০৮/১৯৯১ইং, জন্ম নিবন্ধন নং- ১৯৯১২২২৬৬০২১১৪০২০. ঠিকানা: ইলিয়াছের বাড়ি, উত্তর নুনিয়ার ছড়া, ২নং ওয়ার্ড কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার। বসবাস ১নং ওয়ার্ডে, ভোটার ২নং ওয়ার্ডে।
৩। নাম: আয়েশা বেগম, পিতা: মৃত সুলতান আহাম্মদ, মাতা: বেগম জান, স্বামী: মোঃ রমিজ, এনআইডি নং ৮২৫৮৫৭৯৫৫৯. জন্ম তারিখ:২২/০৩/১৯৯২ইং, জন্ম নিবন্ধন নং- ১৯৯২২২২৬৬০২১২৫০০৫. ঠিকানা: হোল্ডিং- ১৩০৪, উত্তর নুনিয়ার ছড়া, ২নং ওয়ার্ড কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার। বসবাস ১নং ওয়ার্ডে, ভোটার ২নং ওয়ার্ডে। বর্তমানে খুরুশকুল আশ্রয়ন প্রকল্পের ইনানী বিল্ডিংয়ের ৫ তলার ৫০৮নং ফ্লাটে।
৪। নাম: মোঃ হামিদ, পিতা: সুলতান আহমদ,
মাতা: বেগম জান, এনআইডি নং: ৭৩২৫৫১৬৩৩৯. জন্ম তারিখ: ১১/০৬/১৯৯৩ইং, জন্ম নিবন্ধন নং- ১৯৯৩২২২৬৬০২১১৪০১৯. ঠিকানা: ইলিয়াছের বাড়ি, উত্তর নুনিয়ার ছড়া, ২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার। বসবাস ১নং ওয়ার্ডে, ভোটার ২নং ওয়ার্ডে।
৫। নাম: সাদ্দাম হোসেন, পিতা: সোলতান আহমেদ, মাতা: বেগম জান, এনআইডি নং ৭৭৫০০৭০৭২৯. জন্ম তারিখ:০২/০৪/১৯৯৫ইং, জন্ম নিবন্ধন নং- ১৯৯৫২২২৬৬০২১১৯৫৬৩.
ঠিকানা: ইলিয়াছের বাড়ি, উত্তর নুনিয়ার ছড়া, ২নং ওয়ার্ড কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার। বসবাস ১নং ওয়ার্ডে, ভোটার ২নং ওয়ার্ডে। ডিজিটাল হাসপাতালে কর্মরত
৬। নাম: ইব্রাহিম, পিতা: সুলতান আহমদ, মাতা: বেগম জান, এনআইডি নং: ২৮৫৩৫৪৪৭১২, জন্ম তারিখ: ২৫/০৩/১৯৯৮ইং, জন্ম নিবন্ধন নং- ১৯৯৮২২২৬৬০২১২৫০০৫. ঠিকানা: সুলতানের বাড়ী, উত্তর নুনিয়া ছড়া, ২নং ওয়ার্ড কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার। বসবাস ১নং ওয়ার্ডে, ভোটার ২নং ওয়ার্ডে।
৭। নাম: মায়মুনা আকতার (৩০)
স্বামী: আতিকুর রহমান
পিতা: মৃত সুলতান আহমদ
মাতা: বেগম জান
সাং বন্দর পাড়া ফদনার ডেইল, ১নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার। বসবাস ১নং ওয়ার্ডে, ভোটার ২নং ওয়ার্ডে। বর্তমানে খুরুশকুল আশ্রয়ন প্রকল্পের দোলনচাঁপা বিল্ডিংয়ের ৫ তলার ৫০২নং ফ্লাটে।
সচেতন মহল মনে করেন প্রশাসনের উচিত, কক্সবাজার পৌরসভার এক হাজারেরও বেশী রোহিঙ্গা ভোটারদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া। যদিও বিষয়টি কঠিন।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়সাল আলম বলেন, এবিষয়ে কমিশনে আবেদন করতে হবে। কমিশন বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত দিবে। তবে ভোটের বাতিলের আগে জন্ম নিবন্ধন বাতিল করতে হবে রোহিঙ্গাদের। এর বাইরে কিছু জানিনা।



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ