জাকির সিকদার,সৌদিআরব থেকেঃবাংলাদেশসহ চার দেশের ওমরাহযাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। নতুন এই নীতির আওতায় ওমরাহ ভিসা পেতে হলে যাত্রীদের প্রতিদিনের খাবারের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ‘নুসুক’ ফুড ভাউচার কিনতে হবে। এর জন্য প্রতিদিন গুনতে হবে প্রায় ২০ সৌদি রিয়াল, যা সরাসরি ওমরাহ ভিসার মোট ফির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ পাকিস্তানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।আগামী রবিউল আউয়াল মাসের ১ তারিখ থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও মিসরের ওমরাহযাত্রীদের ওপর নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে। নতুন এই ব্যবস্থায় ওমরাহযাত্রীদের হোটেল বুকিং, পরিবহন, খাবারসহ বিভিন্ন সেবা একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পবিত্র মক্কা ও মদিনার প্রায় ১০ হাজার রেস্তোরাঁকে নুসুক অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি ওমরাহযাত্রীর ভিসার সঙ্গে একটি স্বতন্ত্র কোড যুক্ত থাকবে, যা ব্যবহার করে অনুমোদিত খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ থেকে সহজেই খাবার সংগ্রহ করা যাবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ওমরাহযাত্রীদের জন্য মানসম্মত ও সুশৃঙ্খল খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিবন্ধিত সেবা প্রদানকারীদের কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে ওমরাহযাত্রীদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নতুন এই নিয়মের কারণে ওমরাহ প্যাকেজের মোট খরচ বেশ কিছুটা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে তাদের বর্তমান ওমরাহ প্যাকেজ ও খরচের হিসাব নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে।
বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মাওলানা আনিসুর রহমান জানান, প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশ থেকে সরাসরি সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালনে কোনো ধর্মীয় বা আইনি বাধা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত কোটার একটি বড় অংশ অনেক সময় অব্যবহৃত থেকে যায়। যেমন, একটি নির্দিষ্ট বছরে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটার বিপরীতে মাত্র ৮৭ হাজার জন হজ পালন করেছিলেন। অন্যদিকে, ইউরোপ-আমেরিকায় বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি স্থানীয় হজ প্যাকেজের উচ্চমূল্য ও সীমিত কোটার কারণে নিবন্ধন করতে পারেন না। সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে অনেকেই বাংলাদেশি প্যাকেজে আগ্রহী। সরাসরি হজে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে জনপ্রতি চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমার পাশাপাশি অব্যবহৃত কোটা পূরণ করাও সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে কিছু প্রবাসী বৈধ উপায়ে যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সৌদি আরবে গিয়ে বাংলাদেশি কাফেলার সঙ্গে হজ সম্পন্ন করেছেন বলেও তিনি দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন।
বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার জানিয়েছেন, প্রবাসীদের সরাসরি হজের সুযোগ চালুর বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী নীতিগতভাবে একমত এবং এ বছর থেকেই এটি কার্যকর করার তৎপরতা চলছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলামও বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ ও চিঠি দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। হজ অধিশাখার যুগ্মসচিব ড. মঞ্জুরুল হক জানান, সৌদি সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় হজ চুক্তির সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যাবে। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ অফিসের মাধ্যমে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।