প্রেস বিজ্ঞপ্তি : র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মজুতদারি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব ইতিমধ্যেই বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৮, বরিশাল এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ রাত্রী বেলা পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানাধীন শ্রীপুর এলাকা হতে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানার আলোচিত নমিতা রানী হত্যা মামলার ঘটনার মূলহোতা ও প্রধান অভিযুক্ত ১। মোঃ কামাল পঞ্চায়েত (৫৫), পিতা-মৃত আবু পঞ্চায়েত, সাং-দক্ষিণ চন্ডিপুর, থানা-ইন্দুরকানী, জেলা-পিরোজপুর’কে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহারের বিবরণে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মোঃ কামাল পঞ্চায়েত (৫৫) এর সাথে ভিকটিম নমিতা রানী পাল (৬০) এর পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল (৩২) এর দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উক্ত পরকীয়া সম্পর্কের জেরে অভিযুক্ত মোঃ কামাল পঞ্চায়েত প্রায়ই ভিকটিমের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত এবং অসামাজিক কার্জকলাপে লিপ্ত হত। এতে ভিকটিম ও তার স্বামী বাধা প্রদান করলে অভিযুক্তদ্বয় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে হত্যা করবে মর্মে সুযোগ খুঁজতে থাকে। গত ২৮ মে ২০২৬ তারিখ ভিকটিমের স্বামী চন্ডিপুর বাজারে গেলে এই সুযোগে অভিযুক্ত মোঃ কামাল পঞ্চায়েত’সহ অন্যান্ন অভিযুক্তরা বিকাল অনুমান ০৫:৫০ ঘটিকা হতে রাত ২০:০০ ঘটিকার মধ্যে ভিকটিম নমিতা রানী পাল’কে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানাধীন ০৫ নং চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামে তার নিজ বসত ঘরের সামনের বারান্দায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মৃতদেহের গলায় নখের আচড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের দাগ দেখতে পাওয়া যায়। উল্লেখিত ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে র্যাব-৮, সিপিএসসি, বরিশাল ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধী অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তার অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র্যাব-৮, সিপিএসসি, বরিশাল এর একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মোঃ কামাল পঞ্চায়েত’কে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানায় হস্তান্তর করা হয়।