বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আদমদীঘি থানার পুলিশ কনেষ্টবলের অবসর জনিত রাজকীয় দিয়ায় সংবর্ধনা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩নং ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন চেয়ারম্যান পদ পার্থী জুপিটার তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বাঁশখালীতে বন্যায় ১১ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত, নতুন ঘর পাচ্ছে ১০০ পরিবার ঝিনাইগাতীতে বনের ভেতর ১৬ লাখ টাকার ভারতীয় মদ জব্দ তালায় বজ্রপাতে ব্যাবসায়ী নিহত শুকতাইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান রানা মোল্লার গাড়িবহর নিয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সৌদিআরবে ওমরাহ হজ্জে নতুন নিয়মে চারদেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর❞ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ নেতৃত্বে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম

অনলাইন ট্রেডিংয়ের আড়ালে “ট্রেডার আলভীর” কোটি টাকা পাচার।

মেহেদী হাসান,ক্রাইম রিপোর্টারঃসোশ্যাল মিডিয়ায় বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি গাড়ি আর প্রতিদিন ঘরে বসে হাজার হাজার ডলার আয়ের চোখ ধাঁধানো দৃশ্য। এই দৃশ্য দেখিয়ে দেশের হাজারো বেকার তরুণকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের ফাঁদে ফেলছে ‘ট্রেডার আলভী’ নামক একটি অনলাইন চক্র। ফ্রিতে ট্রেডিং শেখানো এবং রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর এই টাকা দেশীয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করে হুন্ডির সাহায্যে ডলারে রূপান্তর করে পাচার করা হচ্ছে বিদেশে।
অনুসন্ধানে জানা যায় আলভী বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার ১৪ নং নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের ইলিয়াস ব্যাপারীর ছেলে, গ্রামে স্কুল এবং কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২০২০ সালে ঢাকায় পাড়ি জমায়।
এবং তার পরেই তার এই অনলাইন ট্রেডিং প্রতারণা শুরু। অনুসন্ধানে আরও জানা যায় ‘ট্রেডার আলভী’ নামের একটি ফেসবুক পেজ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে এই চক্রটি তাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। চক্রের মূল হোতা আলভী নিজেকে একজন সফল ‘ডে ট্রেডার’ দাবি করে প্রতিদিন এডিটেড বা ভুয়া প্রফিট (লাভ) স্ক্রিনশট পোস্ট করে। সাধারণ তরুণদের আকৃষ্ট করার পর তাদের যুক্ত করা হয় একটি ‘ভিআইপি সিগন্যাল গ্রুপে’।
প্রতারণার কৌশল ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই চক্রটির প্রতারণার মূল হাতিয়ার হলো ডিজিটাল প্রলোভন। প্রথমে ফ্রিতে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ‘নিশ্চিত লাভের’ সিগন্যাল দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের ডলার বা মেম্বারশিপ ফি দাবি করা হয়। বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো দেশীয় এজেন্টের মাধ্যমে এই টাকা নেয় চক্রটি। টাকা পাওয়ার পর পরই ভুক্তভোগীদের গ্রুপ থেকে ব্লক বা রিমুভ করে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, “আলভীর ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি আমার জমানো ৫০ হাজার টাকা তার দেওয়া একটি ইন্টারন্যাশনাল ব্রোকার সাইটে ডিপোজিট করি। আলভীর মডারেটররা আমাকে বলেছিল এই টাকা তিন গুণ হবে। কিন্তু টাকা ডিপোজিট করার পর আমি আর সেই অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছি না এবং টেলিগ্রাম থেকেও আমাকে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।
“আইনি জটিলতা ও মানি লন্ডারিং ঝুঁকিবাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে বিটকয়েন বা ইউএসডিটি (USDT)-এর মতো যেকোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ফরেক্স ট্রেডিং সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেডার আলভীর মতো চক্রগুলো যে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তা সরাসরি অবৈধ হুন্ডি চক্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো ওয়ালেটে চলে যাচ্ছে। এটি দেশের প্রচলিত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ট্র্যাকিং এড়াতে এই চক্রটি নিয়মিত তাদের ওয়ালেট অ্যাড্রেস এবং বিকাশ নম্বর পরিবর্তন করে থাকে। তবে তাদের ফেসবুক পেজের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আইনি নজরদারি এড়াতে তারা অত্যন্ত সুকৌশলে ছদ্মনাম ও ভুয়া লোকেশন ব্যবহার করে তরুণদের বিভ্রান্ত করছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য এই বিষয়ে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, অনলাইন ফরেক্স এবং ক্রিপ্টো স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। ‘ট্রেডার আলভী’ চক্রটির কার্যক্রমের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ট্রানজেকশন আইডিসহ লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে এই চক্রের পেছনের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
আরো জানা যায় বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে অবৈধ ট্রেডিং এর নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলেও তার সঙ্গে তখনকার ডিবির সাবেক প্রধান হারুন-অর-রশীদ (ডিবি হারুন) এর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।কেননা তখনকার সময়ে ডিবি হারুন দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে অনেক সেলিব্রেটি, টিকটকার এবং অনলাইন স্ক্যামারদের ডিবি কার্যালয়ে ডেকে এনে ছবি তুলতেন বা ভাত খাওয়াতেন, যা সেসময় বেশ আলোচিত ছিল।



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ