গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:মোঃ ফয়জুল ইসলাম লিমন : গোপালগঞ্জ শহরের ব্যস্ত কাপড়পট্টি এলাকায় দুই নারীকে চুরির অপবাদ দিয়ে আটকে রেখে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বস্ত্র ব্যবসায়ীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গোপালগঞ্জ বস্ত্র মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিটু শিকদার ও এলিট ফেব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী নিয়ামুল। ভুক্তভোগী নারী তৃশা বেগমের দায়ের করা মামলার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে তৃশা বেগমসহ দুই নারী কাপড় কেনার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ শহরের কাপড়পট্টি এলাকায় যান। তাঁরা একটি দোকানে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাপড় দেখেন। পছন্দ না হওয়ায় কোনো কাপড় না কিনেই দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের ঘিরে ধরার অভিযোগ ওঠে।
তৃশা বেগমের অভিযোগ, দোকান থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন ব্যবসায়ী ও কর্মচারী তাঁদের পথরোধ করেন। এ সময় তাঁদের হাতে থাকা ব্যাগ নিয়ে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং কাপড় চুরির অপবাদ দেওয়া হয়।ভুক্তভোগীর দাবি, একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজ করা হয়। পরে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যাগে জোর করে কাপড় ঢুকিয়ে দিয়ে চুরির অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর।ঘটনার সময় দুই নারীকে আটকে রাখার পাশাপাশি তাঁদের মারধর ও হয়রানির দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে আটকে রাখা, মারধর করা কিংবা অপমানজনক ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় তৃশা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে রিটু শিকদার ও নিয়ামুলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে দুই নারী কোনো দোকান থেকে কাপড় নিয়েছিলেন কি না, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা চুরির অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা কী, তাঁদের আটকে রেখে কারা মারধর করেছেন এবং ব্যাগে কাপড় ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব বিষয় এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কোনো চুরির ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোই আইনসম্মত ও নিরাপদ পদ্ধতি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগে কাউকে প্রকাশ্যে চোর হিসেবে আখ্যা দেওয়া, শারীরিকভাবে হেনস্তা করা কিংবা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সেটি মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে ঘটনার প্রকৃত সত্য যাচাই হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও অপমানজনক প্রচারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে এ ঘটনায় শুধু মারধরের অভিযোগ নয়, ভিডিও ধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযোগের ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চুরির অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং দুই নারীকে মারধর ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তদন্তের মাধ্যমে তা নিশ্চিত