বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
যবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার ট্রফি উন্মোচন ও ফিক্সচার ড্র সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের ন্যায্য দাবী আদায়ে নির্বাহী অফিসারের সাথে সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতার জামাতা এখন বর্তমান বিআরটিসির চেয়ারম্যান! তার মাসিক মাসোয়ারা ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা গোপালগঞ্জের ঘোষেরচরে বিডি এস রেকর্ডে জমি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা, পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ওসি মো: মনিরুজ্জামান বদলী জনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বানারীপাড়ায় সাবেক কাউন্সিলরের ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে “রহস্য” পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম সার্ভিস চার্জ বিহীন ডিজিটাল অটোমেশন পেমেন্ট পদ্ধতি চালু করল যবিপ্রবি বরিশালের গৌরনদী থানার চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী আফজালকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৮, বরিশাল Daraz অ্যাপসের নামে ফিশিং লিংক ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারণা চক্রের মূলহোতা মোঃ রিয়াজুল ইসলাম’কে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৮, বরিশাল

কুড়িগ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত দিনমজুরের ঘর,ক্ষুধা-দারিদ্র্যে ভুগছে সন্তানরা

আশরাফুল হক রুবেল কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের ধরলা নদীতীরবর্তী দক্ষিণ নওদাবস গ্রামের দিনমজুর জুয়েল মিয়া (৪০) এখন নিঃস্ব ও দিশেহারা। পেশায় দিনমজুর এই মানুষটির জীবনের একমাত্র অবলম্বন ছিল সামান্য বসতভিটা ও কিছু গবাদিপশু। কিন্তু দুর্যোগ যেন পিছু ছাড়ছে না তার।ধরলা নদীর ভাঙনে এরই মধ্যে তার প্রায় ৫ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তিনি তার বাবার দেওয়া মাত্র ৫ শতাংশ জমির ওপর চারটি ছোট ঘর ও একটি গোয়ালঘর নিয়ে কোনোরকমে বসবাস করছিলেন। কিন্তু গত ২২ অক্টোবর (বুধবার) দিবাগত রাত দুইটার দিকে আকস্মিক এক অগ্নিকাণ্ডে সেই ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।আগুনে তার চারটি গরুর মধ্যে দুইটি পুড়ে মারা যায়, বাকি দুইটি গুরুতর আহত হয়। পরিবারের সব সম্পদ, কাপড়চোপড়, আসবাবপত্র—সবকিছু মুহূর্তেই ছাই হয়ে যায়। এখন তিনি আশ্রয় নিয়েছেন তার ছোট ভাই দুলাল মিস্ত্রির বাড়ির একটি ছোট ঘরে।
অগ্নিকাণ্ডের আগে বাড়ি নির্মাণের সময় জুয়েল মিয়া স্থানীয় এনজিও টিএমএস থেকে ৫০,০০০ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। প্রতি সপ্তাহে ১,৩৫০ টাকা করে কিস্তি দিতে হয় তাকে। কিন্তু এখন সবকিছু হারিয়ে তিনি ঋণের কিস্তি চালাতে পারছেন না।চার সন্তানের পিতা জুয়েল মিয়ার বড় মেয়ে ইতিমধ্যে বিবাহিত, এক মেয়ে হেফজো মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে, ছেলে কুড়িগ্রাম পৌরসভার হানাগর এলাকার মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র, আরেকটি ছোট মেয়ে এখনো শিশুকন্যা। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, খাবার ও থাকার জায়গা—সবকিছুর অভাবেয় তিনি চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।মানবিক সহায়তা হিসেবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মোঃ ইসমাইল হোসেন তাকে ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া চর উন্নয়ন কমিটি, কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু এক মাসের খাদ্য সহায়তা ও নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।
তবে এত অল্প সহায়তায় জীবন পুনর্গঠন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন জুয়েল মিয়া। তিনি বলেন সব শেষ হয়ে গেছে। ঘর নাই, গরু নাই, খাবার নাই। ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় আছি। সরকারের কাছে শুধু একটা আশ্রয় চাই।ধরলা নদীর পাড়ে বসবাসকারী বহু পরিবারই প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু জুয়েল মিয়ার মতো দিনমজুর পরিবারের জন্য এমন দুর্ঘটনা মানে জীবনের সব আলো নিভে যাওয়া। এখন সমাজের বিত্তবান, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতাই হতে পারে এই অসহায় পরিবারের নতুন করে বেঁচে ওঠার একমাত্র আশার আলো।

ফটোকার্ড বানান



ফেসবুকে আমরা
নোটিশ