রিমন আহমেমদ,নওগাঁ প্রতিনিধিঃনওগাঁর মহাদেবপুরে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কোনো ধরনের অনুমোদন বা সনদ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুখাদ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে ‘রাবিয়া ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান । (গণমাধ্যমকর্মীদের) দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ওই অবৈধ কারখানায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন । অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সরস্বতী এলাকার প্রধান সড়ক ঘেঁষা একটি পরিত্যক্ত বয়লার ঘরে গড়ে উঠেছিল এই অবৈধ খাদ্য উৎপাদনের কারখানা । দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কারবারের নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মোহাম্মদ সেকেন্দার রানা । ওই পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কোনো ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মটর ভাজা ডাল, বিভিন্ন ধরনের চিপস এবং ‘জিরো চিপস’-এর মতো মুখরোচক খাদ্যপণ্য তৈরি করা হতো । উৎপাদিত এসব পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণে বাধ্যতামূলক বিএসটিআইয়ের কোনো অনুমোদন বা সনদ ছিল না। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি এসব খাবার সরাসরি শিশুসহ সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছিল । বিশেষ করে শিশুরা এসব ভেজাল পণ্যের প্রধান ভোক্তা হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।স্থানীয় গণকর্মীদের মাধ্যমে এই অবৈধ কারখানার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন । এরই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মহাদেবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ । ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন পণ্য উৎপাদনের সত্যতা নিশ্চিত করা হয় । পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অবৈধ প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ তথ্য প্রদানকারী গণকর্মীদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান । এ সময় তিনি জনস্বার্থে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “খাদ্যে ভেজাল, বিশেষ করে শিশুরা যা খায় তাতে ভেজাল থাকলে আমাদেরকে জানাবেন । উপজেলা প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও শিশুখাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মহাদেবপুর উপজেলা প্রশাসন । প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।