মোঃ ফয়জুল ইসলাম লিমন, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ঘোষেরচর মৌজায় চলমান বিডি এস (বাংলাদেশ সার্ভে) রেকর্ড নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বহু জমির মালিক। দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমির এসএ, আরএস ও সিএস রেকর্ড, নামজারি, দলিল এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ থাকার পরও অনেকেই নতুন বিডি এস রেকর্ডে নিজেদের জমির স্বত্ব ও রেকর্ড পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জমির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘোষেরচর মৌজার বিভিন্ন দাগের জমি পূর্ববর্তী এসএ, আরএস ও সিএস রেকর্ডে তাঁদের পূর্বপুরুষদের নামে কিংবা বৈধ মালিকানার ধারাবাহিকতায় রেকর্ডভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে উত্তরাধিকারসূত্রে এবং ক্রয়সূত্রে এসব জমির মালিকানা তাঁদের কাছে আসে। জমির দলিল, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদও তাঁদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।তবে নতুন বিডি এস রেকর্ড প্রস্তুতের সময় এসব জমির কিছু অংশ খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জমির মালিকেরা নতুন রেকর্ড পেতে জটিলতায় পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে জরিপের সময় সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা ও অসংগতির কারণে প্রকৃত মালিকদের জমি সঠিকভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়নি।
ভুক্তভোগীদের একাংশের দাবি, জরিপের সময় জমির প্রকৃত মালিকানা ও পূর্ববর্তী রেকর্ড যথাযথভাবে যাচাই করা হলে এ ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতো। তবে জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং রেকর্ডে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।জমি মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বিশেষ করে পৈতৃক সম্পত্তি একটি পরিবারের বহু বছরের স্মৃতি, উত্তরাধিকার ও আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। সেই সম্পত্তির রেকর্ড না পাওয়ায় ঘোষেরচর মৌজার বহু পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের আশঙ্কা, জমির রেকর্ড সংশোধন না হলে ভবিষ্যতে জমি বিক্রি, হস্তান্তর, নামজারি, উত্তরাধিকার নির্ধারণ এবং অন্যান্য ভূমিসংক্রান্ত কাজে জটিলতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের হাতে থাকা বৈধ দলিল, পূর্ববর্তী খতিয়ান, নামজারি ও খাজনার রসিদ যথাযথভাবে যাচাই করে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা হোক। যেসব জমি ভুলবশত খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া। স্বচ্ছ যাচাই ও ন্যায়সংগত সমাধানের প্রত্যাশাভূমি রেকর্ডের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ঘোষেরচর মৌজার চলমান বিডি এস রেকর্ড নিয়ে যে উদ্বেগ ও অভিযোগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ে যাচাই এবং আইনসম্মত রেকর্ড সংশোধনের উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রকৃত মালিকদের জমির অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে যেসব জমি ভুলভাবে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে ন্যায়সংগত সমাধান করা হবে।ঘোষেরচরের জমির মালিকদের মূল দাবি—পূর্ববর্তী রেকর্ড, দলিল, নামজারি ও খাজনার রসিদ যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী ভুল রেকর্ড সংশোধনের মাধ্যমে তাঁদের বৈধ সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।